ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি আবাসিক হল থাকলেও কোনো হলেই নারী প্রভোস্ট নেই। তিনটি হলের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে পুরুষ শিক্ষক থাকায় ব্যক্তিগত ও আবাসিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলগুলোতে নারী প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে জুলাই-৩৬ হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং খালেদা জিয়া হল রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. এ কে এম শামসুল হক। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশেদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন।
তিনটি হলেই একাধিক হাউস টিউটর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সেখানেও নারী শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। জুলাই-৩৬ হলে দুইজন হাউস টিউটরের মধ্যে একজন নারী। খালেদা জিয়া হলে তিনজনের মধ্যে একজন নারী এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলেও তিনজন হাউস টিউটরের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে তিনটি আবাসিক হলে মোট ১৪ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন পুরুষ কর্মকর্তা। এ ছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যেও কয়েকজন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হলের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে নারী শিক্ষক না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত, আবাসিক কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় অনেক সময় পুরুষ শিক্ষকের কাছে সরাসরি বলতে সংকোচ তৈরি হয়। নারী প্রভোস্ট থাকলে এ ধরনের সমস্যাগুলো আরও সহজে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন তাঁরা।
জুলাই-৩৬ হল কালচারাল সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তামান্না বলেন, হলে নারী শিক্ষক দায়িত্বে থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য যোগাযোগ করা সহজ হয়। যেকোনো ব্যক্তিগত বিষয় নারী শিক্ষকের কাছে যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে বলা সম্ভব, পুরুষ প্রভোস্টের ক্ষেত্রে একইভাবে বলা সম্ভব হয় না বলে তিনি মনে করেন।
খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারজিয়া আক্তার বলেন, মেয়েদের হলে পুরুষ প্রভোস্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অস্বস্তি অনুভব করেন। ব্যক্তিগত সমস্যার কথা পুরুষদের কাছে বলতে অনেকের সংকোচ হয়। তাঁর মতে, হলে নারী প্রভোস্টের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আজমেরী রহমানও নারী প্রভোস্ট নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, মেয়েদের আবাসিক হলে নারী শিক্ষক দায়িত্বে থাকলে শিক্ষার্থীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে তাঁদের হলে শিক্ষক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশই পুরুষ হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
তিনি আরও বলেন, রাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এ ছাড়া দায়িত্বে থাকা হাউস টিউটররা হলে অবস্থান করেন না বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে নারী প্রভোস্ট না থাকাকে প্রশাসনিকভাবে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, হলের প্রভোস্ট নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। প্রতিটি হলেই নারী শিক্ষক হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারেন।
অধ্যাপক জালাল উদ্দিনের মতে, প্রভোস্টের মূল দায়িত্ব প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করা। সে ক্ষেত্রে পুরুষ শিক্ষক প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে নারী প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য ভাবছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি নারী আবাসিক হলে বর্তমানে নারী হাউস টিউটর থাকলেও তাঁদের সংখ্যা সীমিত। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নারী প্রভোস্ট ও নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। ফলে প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যোগাযোগের সুযোগ এবং আবাসিক পরিবেশ কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!