সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন কমিটিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের রাখার বিধান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধের অভিযোগ পর্যালোচনা, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং সচেতনতা বাড়াতে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইসিটি-৩ শাখা থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে গঠিত উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।

এ ছাড়া সভাপতি কর্তৃক মনোনীত দুজন অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করেন এমন একজন আইনজীবীকেও সভাপতি মনোনয়ন দিতে পারবেন। তবে আইনজীবী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।
স্থানীয় প্রেস ক্লাবের একজন প্রতিনিধিকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করেন এমন সাংবাদিকদের মধ্য থেকে ওই প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম বা সংস্থার একজন প্রতিনিধিকে কমিটির সদস্য করা যাবে।

কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে রাখার বিধানও রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন নারী প্রতিনিধি থাকবেন। এসব সদস্যও সভাপতি মনোনয়ন দেবেন। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন উপজেলা কার্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কাজও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সভা, সেমিনার, কর্মশালা, প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে কমিটি। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে।

সাইবার বুলিং, সাইবার হয়রানি, অনলাইন প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে। সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

শিশু-কিশোরসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও কমিটির কার্যপরিধিতে রাখা হয়েছে। সাইবার অপরাধ, সাইবার বুলিং ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ করবে কমিটি।

এ ছাড়া সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ এবং সিআইআরএসের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলোর তালিকা ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে কমিটি। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনাও দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিকে প্রতি মাসে সভা করতে হবে। সভার কার্যবিবরণী জেলা কমিটিতে পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কমিটিতে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও রয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে এখন নতুন কাঠামো ও নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুযায়ী কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!