ড্রাইভিং লাইসেন্স করার আগে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা বিএসপির মাধ্যমে এই লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি। কারণ কোনো তথ্য বা ডকুমেন্টে ভুল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিআরটিএর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, লার্নার লাইসেন্সের আবেদনে মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং ঠিকানার প্রমাণপত্রের মতো নথি প্রয়োজন হয়।

শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখতে হবে। বিআরটিএর বিএসপি নির্দেশিকায় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্য কপির কথা উল্লেখ রয়েছে। অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নির্ধারিত ফরম্যাট ও আকারে আপলোড করতে হয়। বিআরটিএর নির্দেশিকায় এনআইডি, জন্মসনদ বা পাসপোর্টের স্ক্যান কপির সর্বোচ্চ আকার ৬০০ কিলোবাইট পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এরপর প্রয়োজন হবে নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট। লার্নার লাইসেন্সের আবেদনের সঙ্গে এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি জমা দিতে হয়। বিএসপির নির্দেশিকায় মেডিকেল সার্টিফিকেটের সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ ৬০০ কিলোবাইট উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে নির্ধারিত মেডিকেল ফরমে সার্টিফিকেট নিয়ে সেটি পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে রাখতে হবে।

আবেদনকারীর একটি সাম্প্রতিক ছবি প্রয়োজন হবে। বিআরটিএর অনলাইন নির্দেশিকায় ছবির সর্বোচ্চ আকার ১৫০ কিলোবাইট এবং ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেলের ছবি ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে অনলাইনে আবেদন করার আগে ছবি নির্ধারিত মাপ ও ফাইল সাইজে প্রস্তুত করে রাখা ভালো।

বর্তমান ঠিকানা জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য পরিচয়পত্রে থাকা ঠিকানার সঙ্গে ভিন্ন হলে ঠিকানার প্রমাণও দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্দেশিকায় বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নাগরিক সনদে ভাড়ার চুক্তিপত্র, ইউটিলিটি বিল অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য ঠিকানার প্রমাণকের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অনলাইনে আবেদনের সময় প্রয়োজন হলে এই ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও আবেদনকারীদের জানা দরকার। বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রয়োজন হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় এর স্ক্যান কপি সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য ফি দেওয়ার প্রমাণও আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এখানে বিআরটিএর বিভিন্ন পুরোনো ও নতুন তথ্যপেজে ফি নিয়ে ভিন্ন অঙ্ক দেখা যায়। বিআরটিএর একটি বর্তমান অনলাইন নাগরিক সনদে মোটরসাইকেল অথবা হালকা মোটরযানের জন্য ৩৪৫ টাকা এবং মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান—দুই ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে বিআরটিএর আরেকটি ড্রাইভিং লাইসেন্স নির্দেশনায় এক ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা উল্লেখ আছে। তাই আবেদন করার সময় আপনার বিএসপি অ্যাকাউন্টে যে বর্তমান নির্ধারিত ফি দেখাবে, সেটিই অনুসরণ করা উচিত।

বিআরটিএর বর্তমান সার্ভিস পোর্টাল অনুযায়ী, বিএসপি এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ড্রাইভিং লাইসেন্স সেবার জন্য আবেদন ও ফি পরিশোধ করা যায়। একই পোর্টালে ফি ক্যালকুলেটর, পেমেন্ট যাচাই এবং ড্রাইভিং পরীক্ষার ফলাফল দেখার মতো সেবাও রয়েছে।

অনলাইনে আবেদন করার সময় তথ্য পূরণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। বিএসপির লার্নার লাইসেন্স ফরমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন, ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। একই সঙ্গে লার্নার লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

আবেদনকারীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পাওয়ার পরই সরাসরি পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী লার্নার লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নির্ধারিত তারিখ ও কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

বিআরটিএ জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদনের সময় ভুয়া বা ভুল তথ্য দেওয়া হলে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পরবর্তী স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই অন্য কারও পরিচয় বা তথ্য ব্যবহার না করে নিজের সঠিক তথ্য দিয়েই আবেদন করা উচিত।

সব মিলিয়ে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে একজন আবেদনকারীর হাতে অন্তত জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি, নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট, নির্ধারিত মাপের সাম্প্রতিক ছবি, প্রয়োজন হলে বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রস্তুত রাখা উচিত। এরপর বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত তথ্য পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং সিস্টেমে প্রদর্শিত বর্তমান ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!