বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডে একই নামে একাধিক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তালিকাভুক্ত ৪৭টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে বোর্ডে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে এবং শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের স্মারক নং- ৫৭.১৬.০০০০.০৩৮.১৯.০০৫.২৫-এর মাধ্যমে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বোর্ডের চিঠিতে বলা হয়েছে, রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, সংযুক্ত তালিকায় থাকা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে একই নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান পৃথক কোড গ্রহণ করেছে। বিষয়টি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার জন্য প্রধান শিক্ষকদের বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকায় ১ থেকে ২৫ নম্বরে থাকা মাদ্রাসাগুলোর প্রধান শিক্ষকদের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে। আর ২৬ থেকে ৪৭ নম্বরে থাকা মাদ্রাসাগুলোর প্রধান শিক্ষকদের ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। উভয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বোর্ডের কক্ষ নম্বর ৫০৪-এ।
শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রথম স্বীকৃতির মূল কপি এবং সর্বশেষ স্বীকৃতি নবায়নের মূল কপি।
এ ছাড়া মাদ্রাসার নামে থাকা জমির মূল দলিল, অনলাইন পর্চা এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদও সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের তালিকা নিয়ে যেতে হবে। এ তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত হতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে একই নামে একাধিক কোড গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। শুনানির সময় মূল কাগজপত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিটি নথির এক সেট ফটোকপি বোর্ডে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সংযুক্ত তালিকায় মোট ৪৭টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মানিকগঞ্জ, ভোলা, মৌলভীবাজার, বরগুনা, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, জামালপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলার।
তালিকায় প্রতিটি মাদ্রাসার নাম, কোড, জেলা ও উপজেলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান পৃথক কোড গ্রহণের বিষয়টি যাচাই করতেই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের নথিপত্রসহ বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
বোর্ডের চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত না হলে একই নামে একাধিক কোড গ্রহণকারী মাদ্রাসাগুলোর অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে।
তবে বোর্ডের নির্দেশনায় তালিকাভুক্ত কোনো মাদ্রাসাকে চূড়ান্তভাবে অনিয়মকারী বা অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাখ্যা, শুনানি এবং দাখিল করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!