জাপানে চলমান ২০তম এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকির পুল ‘এ’-এর ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজের দল। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ফাতুর মোছামাদের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। তবে পাঁচ মিনিট পরই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান আমিরুল ইসলাম। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ইন্দোনেশিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল বা হকি খেলায় মনোযোগী ছিল এবং দ্রুতই তার ফল পেয়ে যায় তারা। ষষ্ঠ মিনিটে ফাতুর মোছামাদের গোল বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেলে। তবে গোল হজম করার পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করে আক্রমণে ফেরে। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানেই সমতা ফিরিয়ে আনে দলটি। ১১তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে লক্ষ্যভেদ করেন আমিরুল ইসলাম। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচের স্কোর ১–১ হয়। এরপর দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র আরও বাংলাদেশের পক্ষে যেতে শুরু করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে গতি বাড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে আবারও সফল হন আমিরুল ইসলাম। পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এর মাধ্যমে শুধু দলকে এগিয়েই দেননি, ব্যক্তিগতভাবেও ম্যাচে জোড়া গোলের কৃতিত্ব অর্জন করেন আমিরুল। প্রথম গোলের পর সমতায় ফিরলেও এবার পিছিয়ে পড়ে ইন্দোনেশিয়া। এরপর সমতা ফেরাতে তারা আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ সামলে দলকে এগিয়ে রাখেন।

দ্বিতীয় গোলের পরও বাংলাদেশের আক্রমণ থামেনি। ৩৭তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি। তিনি ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশের লিড ৩–১ করেন। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে আমিরুলের দ্বিতীয় গোলের পর জিমির এই গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে বাংলাদেশের হাতে এনে দেয়। দুই গোল পিছিয়ে যাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা নিজেদের রক্ষণ সংগঠিত রেখে প্রতিপক্ষকে পরিষ্কার গোলের সুযোগ দিতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে ৩–১ গোলের ব্যবধানেই পূর্ণ সময়ের বাঁশি বাজে।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পাওয়া জয়টি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এশিয়ান গেমসের শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলে হারার পর স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষেও ৬–১ গোলে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৫–১ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় পায় দলটি। সেই জয়ের ধারাবাহিকতায় এবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও সাফল্য পেল তারা। অর্থাৎ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর পরের দুই ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও তিন গোল করার ফলে আক্রমণভাগের কার্যকারিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

এই জয়ের পেছনে আমিরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন গোলের মধ্যে দুটি এসেছে তাঁর স্টিক থেকে। একটি গোল করেছেন রাসেল মাহমুদ জিমি। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নার থেকে আমিরুলের কার্যকারিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। ফলে টানা দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে তাঁর গোল করার অবদান রয়েছে। অন্যদিকে জিমির ফিল্ড গোল বাংলাদেশের আক্রমণকে আরও কার্যকর করেছে। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরা এবং দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে ব্যবধান বাড়ানো বাংলাদেশের ম্যাচ পরিচালনার ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে।

ইন্দোনেশিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে এখন পুল পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের চ্যালেঞ্জ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর টানা দুই জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে। তবে পরবর্তী পর্বে ওঠার সমীকরণ নির্ভর করবে গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচের ফল ও পয়েন্ট অবস্থানের ওপর। তাই ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও গ্রুপ পর্বের লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!