ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরও ওষুধ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার প্রস্তাব নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটির ভিন লং প্রদেশের ভোটাররা নতুন ওষুধ, বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের তালিকা বাড়ানোর আবেদন জানান। তাদের অভিযোগ, অনেক নতুন ক্যান্সারের ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় রোগীদের নিজেদের অর্থে সেগুলো কিনতে হচ্ছে।

১৬তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর ভিন লং প্রদেশের ভোটারদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্যবীমার আওতায় চিকিৎসা নিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসা অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পরও প্রয়োজনের তুলনায় কম ওষুধ পাচ্ছেন। এ কারণে স্বাস্থ্যবীমার আওতাভুক্ত ওষুধের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কিছু ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

ভোটারদের আবেদনে বিশেষভাবে ক্যান্সারের চিকিৎসার ওষুধ এবং এমন কিছু ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর জন্য বর্তমানে রোগীদের উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালে যেতে হয় অথবা নিজেদের অর্থে বাইরে থেকে কিনতে হয়।

জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে স্বাস্থ্যবীমা তহবিল থেকে পরিশোধযোগ্য রাসায়নিক ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা করে সংশোধন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত নতুন তালিকায় বেশ কিছু উদ্ভাবনী ওষুধ এবং উচ্চ চিকিৎসা কার্যকারিতাসম্পন্ন ওষুধ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যবীমা তহবিলের আর্থিক ভারসাম্যের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাসপাতালের শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তে চিকিৎসাসেবার কারিগরি দক্ষতার স্তর অনুযায়ী ওষুধের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবীমার আওতা বাড়িয়ে ৩৪৯টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে রোগীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকেই এসব ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।

ক্যান্সারের ওষুধসহ নতুন ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ভিয়েতনামে বর্তমানে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ওষুধের তালিকা চাঁদার হারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সার্কুলার ২০/২০২২-এ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা রাসায়নিক ওষুধের তালিকায় ২৭টি বড় গ্রুপে ১ হাজার ৩৭টি সক্রিয় উপাদান, রাসায়নিক ওষুধ ও জৈবিক পণ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ৫৯টি তেজস্ক্রিয় ওষুধ ও ট্রেসারও তালিকায় রয়েছে। এসবের মধ্যে ক্যান্সার চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ৭৬টি সক্রিয় উপাদান, ওষুধ ও জৈবিক পণ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার তালিকায় ২২৯টি ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও ভেষজ ওষুধ এবং ৩৪৯টি ঐতিহ্যবাহী ওষুধি উপাদান রয়েছে। এ তালিকা সার্কুলার ০৫/২০১৫ অনুযায়ী করা হয়েছে, যা পরে সার্কুলার ২৭/২০২০-এর মাধ্যমে সংশোধন ও পরিপূরক করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবীমার আওতাভুক্ত ওষুধের তালিকা নির্দিষ্ট মাত্রা, ওষুধের ধরন বা বাণিজ্যিক নাম অনুযায়ী তৈরি করা হয় না। বরং সক্রিয় উপাদান বা উপাদানের নামের ভিত্তিতে তালিকা করা হয়। ফলে স্বাস্থ্যবীমা তহবিল থেকে পরিশোধ করা প্রকৃত প্রস্তুতকৃত ওষুধের সংখ্যা তালিকায় উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে বেশি।

পর্যালোচনাধীন সংশোধিত তালিকায় নতুন প্রজন্মের কিছু ক্যান্সারের ওষুধ, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির মতো জৈবিক ওষুধ এবং উচ্চ চিকিৎসা কার্যকারিতার ইমিউনোথেরাপি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে কোন কোন নির্দিষ্ট ওষুধ এবং কী হারে স্বাস্থ্যবীমার অর্থ পরিশোধ করা হবে, তা সংশোধিত তালিকা ও পরিশোধ ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!