২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিলের কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল ১–১ গোলে ড্র করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দুই দলের নতুন আন্তর্জাতিক চক্রের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও জয় তুলে নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বিপরীতে শেষ মুহূর্তে গোল করে হার এড়িয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেয়। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও সেই ব্যবধান ধরে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে রায়ানের হেডে সমতা ফেরে ব্রাজিলের।
এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এটিই ছিল ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপের পর দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও ২০২৭ এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর দিকে নজর দিচ্ছে। ফলে ম্যাচটির মূল উদ্দেশ্য শুধু ফলাফল নয়, বরং নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরীক্ষা করা এবং পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য দলকে প্রস্তুত করা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও এনদ্রিকের মতো পরিচিত নাম থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ তাদের সহজে সুযোগ দেয়নি। ব্রাজিলের একাদশেও নতুন মুখ ছিল। মাতেউজিনহো ও ভিতর রেইসের মতো খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পান। আনচেলত্তির জন্য এটি ছিল তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় পরীক্ষা করার একটি সুযোগ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে বল ব্রাজিলের জালে পাঠান। গোলটি শুধু অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেয়নি, পুরো স্টেডিয়ামেও তৈরি করে উচ্ছ্বাস। ২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি বড় প্রমাণ দেন। অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণে তার গতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা ব্রাজিলের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলেছিল।
গোল হজমের পর ব্রাজিল সমতা ফেরানোর জন্য আক্রমণের চাপ বাড়িয়ে দেয়। আনচেলত্তি বেঞ্চ থেকে খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন। অস্ট্রেলিয়া তখন নিজেদের রক্ষণ আরও শক্ত করে ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে। সময় যত গড়াতে থাকে, ততই মনে হচ্ছিল স্বাগতিকরা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে স্মরণীয় একটি জয় তুলে নিতে যাচ্ছে। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো চিত্র।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৫তম মিনিটে ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান হেডের মাধ্যমে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ সময়ের লিড শেষ হয়ে যায় এবং ম্যাচ শেষ হয় ১–১ সমতায়। শেষ মুহূর্তের এই গোল ব্রাজিলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচালেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি ছিল জয়ের খুব কাছে গিয়েও দুই পয়েন্টের সমতুল্য সুযোগ হারানোর ঘটনা।
এই ম্যাচের ফল দুই দলের সামনের পরিকল্পনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভর করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরে এসেছে। বিশেষ করে রায়ানের শেষ মুহূর্তের গোলটি ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের জন্য উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে। অর্থাৎ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দলই প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!