জিনেদিন জিদান ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের ক্যাম্প পরিচালনা ও পরিবেশে কিছু পরিবর্তন আনছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসারদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম L’Équipe-এর তথ্য উদ্ধৃত করে Foot Mercato জানিয়েছে, ফ্রান্স দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসারদের আর ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্পে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালে খেলোয়াড়রা নিজেদের ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসারকে সেখানে নিয়ে গিয়ে চুল কাটাতে পারবেন না।
তবে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জিদান ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের চুল কাটতে নিষেধ করেননি। খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই চুল কাটতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞাটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসারদের ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্পে প্রবেশের ক্ষেত্রে। ফলে কোনো খেলোয়াড় নিজের পছন্দের হেয়ারড্রেসারের কাছ থেকে চুল কাটাতে চাইলে তাকে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে অথবা ক্যাম্পের বাইরে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের চুলের ওপর নয়, বরং ক্যাম্পের ভেতরে বাইরের ব্যক্তির প্রবেশের ওপর।
এখানে ক্লেয়ারফঁতেন বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্লেয়ারফঁতেন কোনো স্টেডিয়াম বা সাধারণ অনুশীলন মাঠের নাম নয়। এটি ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও আবাসিক কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখানে একত্রিত হন, থাকেন, অনুশীলন করেন এবং দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। তাই যখন বলা হচ্ছে হেয়ারড্রেসারদের ক্লেয়ারফঁতেন-এ ঢুকতে দেওয়া হবে না, তার অর্থ হলো জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নাপিত বা হেয়ারড্রেসার সেখানে গিয়ে সেবা দিতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্তটি জিনেদিন জিদানের নতুন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। ফ্রান্সের কোচ হওয়ার পর তিনি দলের মাঠের বাইরের পরিবেশ নিয়েও কিছু পরিবর্তন আনছেন। ক্লেয়ারফঁতেনকে জাতীয় দলের জন্য আরও নিয়ন্ত্রিত ও ব্যক্তিগত পরিবেশ হিসেবে রাখার প্রবণতা তার অন্যান্য সিদ্ধান্তেও দেখা গেছে। খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে আসার সময় সংবাদমাধ্যম ও আলোকচিত্রীদের উপস্থিতি নিয়েও তিনি পরিবর্তন এনেছেন। আগে খেলোয়াড়দের আগমন অনেকটা ফ্যাশন প্রদর্শনীর মতো আলোচনায় আসত। নতুন ব্যবস্থায় সেই দৃশ্যও সীমিত করা হয়েছে।
আগের ব্যবস্থায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসাররা ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্পে গিয়ে তাদের চুল কাটানোর সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকবে না। ফলে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় জাতীয় দলের ক্যাম্পে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের নিজেদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যাওয়াই সুবিধাজনক হবে। তবে কোনো খেলোয়াড়ের চুল বড় হয়ে গেলে বা চুল কাটার প্রয়োজন হলে, সেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমনটা বলা যাবে না। কারণ নিষেধাজ্ঞাটি হেয়ারড্রেসারের প্রবেশ নিয়ে।
কেন জিদান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই এটিকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না। তবে ক্লেয়ারফঁতেনের ভেতরের পরিবেশকে আরও নিয়ন্ত্রিত রাখার বিষয়ে জিদানের বিভিন্ন পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলের ক্যাম্পে কারা প্রবেশ করবেন এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সময় কীভাবে পরিচালিত হবে, সেসব বিষয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব দিচ্ছে।
জিদানের অধীনে ফ্রান্স দলের নতুন যুগে এমন ছোট ছোট প্রশাসনিক পরিবর্তনও তাই আলোচনায় আসছে। মাঠে দলের কৌশল, খেলোয়াড় নির্বাচন ও অনুশীলনের পাশাপাশি ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়েও কোচ নিজের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করছেন। ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসারদের প্রবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বাইরে থেকে ছোট বিষয় মনে হলেও জাতীয় দলের ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় এটি একটি পরিবর্তন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!