ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ বাড়ায় বিশ্ববাজারে শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতিদের হামলার আশঙ্কা থাকায় বাজারে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ২টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার ৫৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার উভয় বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। দিন শেষে ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ে। ব্রেন্টের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়েও ওঠে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগের ছয় কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমলেও ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনাও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কে দুই দেশের আলোচকেরা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি ধাপে ধাপে পথ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামোর মধ্যে ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে মার্চে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও লোহিত সাগরের ইয়ানবু এলাকায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো এখনো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। হুতিদের চলমান হামলা সেই ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
এদিকে সৌদি আরব লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু রপ্তানি কেন্দ্রে তেল সরবরাহকারী ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পাম্প করার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। তবে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে পণ্য তোলার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে শিল্প খাতের বিভিন্ন সূত্র, স্যাটেলাইট ছবি ও নৌপরিবহন তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়াও বাজারে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনটি আবার চালু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে পুরো সক্ষমতায় সরবরাহ ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।
ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ—দুই দিক থেকেই বাজারে কিছুটা স্বস্তির সংকেত মিলছে। তবে হুতিদের হামলার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!