ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে আগামীকালের ম্যাচের জন্য শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছেন। এই একাদশে থাকছেন গোলরক্ষক হুগো সুজা, ডিফেন্ডার মাতেউজিনিও, মারকিনিওস, ভিতর রেইস ও দগলাস স্যান্তোস, মিডফিল্ডার দানিলো ও ব্রুনো গিমারায়েস, এবং আক্রমণভাগে এস্তেভাও, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্দ্রিক। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে, স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। ব্রাজিলিয়া সময় হিসেবে তা পড়বে সকাল ৭টায়, আর বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী খেলাটি শুরু হবে বিকাল ৪টায়, ফলে বাংলাদেশ থেকে যারা খেলাটি দেখতে চান তারা সহজেই সময় মিলিয়ে নিতে পারবেন।

এই ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায় দলের সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে শেষ ষোলোতে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিল দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এরলিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে সেই ম্যাচে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল সেলেসাওদের। এরপর দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন পুরনো ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আনচেলত্তি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় খুঁজে বের করার কাজে হাত দিয়েছেন।

কীভাবে এই পরিবর্তন হচ্ছে তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ এই একাদশেই দেখা যাচ্ছে। সেন্টার-ব্যাক ভিতর রেইস এবং রাইট-ব্যাক মাতেউজিনিও প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন, যা তাদের ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক। আনচেলত্তি নিজেই বলেছেন যে তিনি এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে চান যাদের সম্পর্কে তার আগে থেকে খুব বেশি ধারণা নেই, কারণ এতে বড় প্রতিযোগিতার আগে চূড়ান্ত দল বাছাই করা তার জন্য সহজ হবে। মারকিনিওস, গাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ব্রুনো গিমারায়েস, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে।

আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই ম্যাচগুলোকে সাধারণ প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখতে রাজি নন। তার মতে ব্রাজিলের জন্য কোনো ম্যাচই সাধারণ প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচ একটি নতুন মৌসুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন যে তার লক্ষ্য হলো ২০২৮ কোপা আমেরিকা এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা দুর্দান্ত একটি প্রজন্মের পর এখন নতুন ভিত্তি তৈরি করাই তার মূল কাজ বলে তিনি মনে করেন।

এই একাদশ গঠনের পেছনে কিছু বাধ্যবাধকতাও কাজ করেছে। চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো হাঁটুর চোটের কারণে এই সফরে যোগ দিতে পারেননি, যার ফলে আক্রমণভাগে নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে হয়েছে আনচেলত্তিকে। এই কারণেই রাফিনিয়াকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশাপাশি আরও এগিয়ে থাকা ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া লিভারপুলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকেও এবারের স্কোয়াডে রাখা হয়নি, যদিও কোচ জানিয়েছেন যে তিনি এখনও তাকেই তার প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করেন। এই কারণেই গোলপোস্টের নিচে দেখা যাবে করিন্থিয়ান্সের হুগো সুজাকে।

কোথায় ও কখন এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে তারও একটি পরিষ্কার সূচি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি হবে ব্রাজিলের দুটি ম্যাচের প্রথমটি। দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে। এরপর আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল, যা হবে সুপার ফিফা উইন্ডোর অংশ হিসেবে তাদের তৃতীয় ম্যাচ। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচও তার দলে দশটি পরিবর্তন এনেছেন এবং সাতজন নতুন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে জায়গা দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে দুই দলই এই সিরিজকে নতুন খেলোয়াড় যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচগুলো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর দলের ওপর যে সমালোচনার চাপ তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই ইতালিয়ান কোচ তরুণ ও কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ব্রাজিলে এই ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টিভি গ্লোবো, স্পোর্টভি ও গ্লোবোপ্লে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!