একসময় কানায় কানায় পানিতে পূর্ণ থাকত নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী বিল। বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌভ্রমণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসতেন অসংখ্য পর্যটক। বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠত বিলসংলগ্ন এলাকা। ব্যস্ত থাকত নৌকার ঘাট, জমজমাট থাকত দোকানপাট ও খাবারের ব্যবসা। তবে বর্তমানে বিলের পানি কমে যাওয়ায় বদলে গেছে সেই চিত্র।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় আগের মতো নৌকা চলাচল করতে পারছেন না মাঝিরা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যেখানে কিছুদিন আগেও ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড়ে আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হতো, সেখানে এখন অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে বিলের পাড় ও আশপাশের এলাকা।

নৌকার মাঝিরা জানান, পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় নৌকা ভাড়ার চাহিদাও প্রায় নেই বললেই চলে। একসময় প্রতি ঘণ্টায় নৌকা ভাড়া নেওয়া হতো প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে পর্যটক না থাকায় অনেক সময় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকাতেও নৌকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মাঝিরা আয়-রোজগার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

শুধু নৌকার মাঝিরাই নন, পর্যটনকেন্দ্রিক দোকানপাটের ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন সংকটে। পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় দোকানগুলোতে বেচাকেনা অনেকটাই কমে গেছে। খাবার, চা-নাশতা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা এখন অনেকটা ক্রেতাশূন্য অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, পর্যটকদের ওপর নির্ভর করেই হাঁসাইগাড়ী বিলের আশপাশে অনেক ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। পর্যটক থাকলে দোকানে বেচাকেনা বাড়ে, নৌকা চলে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে।

একসময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ হাঁসাইগাড়ী বিলে ছুটে আসতেন। বর্ষায় বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকায় ঘোরাঘুরি, সবুজ প্রকৃতি ও সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করত। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে হাঁসাইগাড়ী বিলকে নওগাঁর আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে বর্তমানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় সেই চেনা ব্যস্ততা আর নেই। নেই পর্যটকদের কোলাহল, নেই আগের মতো নৌকার ব্যস্ততা, নেই সড়কে সেই যানজট। বিলের পাড়ে বিরাজ করছে অনেকটা নীরব পরিবেশ। পর্যটকের আশায় নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন মাঝিরা, কিন্তু যাত্রী না থাকায় তাদের আয়ও কমে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, হাঁসাইগাড়ী বিলকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিলের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নৌযান চলাচল এবং পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

হাঁসাইগাড়ী বিলের পর্যটন কার্যক্রম অনেকটাই পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন কার্যক্রমেও ভাটা পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে নৌকার মাঝি, দোকানদারসহ বিলকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিরা আশা করছেন, বিলের পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এলে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে হাঁসাইগাড়ী বিল। ফিরে আসবে নৌকার ব্যস্ততা, জমে উঠবে দোকানপাটের বেচাকেনা এবং প্রাণ ফিরে পাবে বিলকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!