নওগাঁর পত্নীতলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ৩১তম কারাম উৎসব–২০২৬। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নজিপুর হাইস্কুল মাঠে দিনব্যাপী এ উৎসবে লোকজ গান, নৃত্য, মাদলের তালে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়।

কারাম উৎসব সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কারাম ডালকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও লোকজ আচার, উপবাস, কিচ্ছা, নাচ-গানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। নিজেদের ইতিহাস, বিশ্বাস, ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করাও এ উৎসবের অন্যতম দিক।

বুধবার বিকেলে নজিপুর হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ড্যানি সিডাক।

উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে পত্নীতলা ও ধামইরহাট এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা মোঃ শামসুজ্জোহা খান জোহা প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন।

উৎসবকে ঘিরে নজিপুর হাইস্কুল মাঠে তৈরি হয় বর্ণিল পরিবেশ। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা নৃত্য ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। ঢোল ও মাদলের তালে তালে তাদের পরিবেশনা উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাংস্কৃতিক দলগুলো নিজেদের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্যের মাধ্যমে সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পী এমরান হোসেন (ইমরান হাসো) সংগীত পরিবেশন করেন। তার পরিবেশিত লোকজ গানে উৎসবে অংশ নেওয়া দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

কারাম উৎসবকে ঘিরে শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশনাই নয়, নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা পৌঁছে দিতে কারাম উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎসবের বিভিন্ন পর্বে স্থানীয় মানুষ ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নজিপুর হাইস্কুল মাঠ একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। নাচ-গান, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রও তৈরি হয়। পত্নীতলার এবারের কারাম উৎসবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

দিনব্যাপী নানা আয়োজন শেষে বর্ণিল পরিবেশে ৩১তম কারাম উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আয়োজনকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করায় আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী শিল্পী, অতিথি, দর্শক-শ্রোতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!