পর্তুগালের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অধ্যায় যেন এখনো শেষ হওয়ার পথে নয়। বয়স ৪১ পেরিয়ে গেলেও জাতীয় দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারফরম্যান্সকেই সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন এই পর্তুগিজ তারকা। নতুন কোচ জর্জে জেসুসের অধীনে পর্তুগালের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। নিজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রোনালদো জানিয়েছেন, এখনো তার মনে হয় যেন পর্তুগাল দলে প্রথম বছরের মতোই নিজেকে প্রমাণ করতে হচ্ছে। তার মতে, প্রতিদিনের পারফরম্যান্সই দেখিয়ে দিচ্ছে যে তিনি এখনো এই দলের অংশ হওয়ার যোগ্য।
নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, এখনো তার মনে হয় যেন পর্তুগাল দলে তার প্রথম বছর চলছে এবং তাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তিনি এখানে থাকার যোগ্য। এরপর নিজের পারফরম্যান্সের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের প্রমাণ রয়েছে যে তিনি এখনো গোল করতে পারেন। জাতীয় দল ও ক্লাব—দুই জায়গাতেই গোল করার মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। অর্থাৎ অতীতের অর্জনের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই নিজের জায়গা ধরে রাখার বার্তা দিয়েছেন পর্তুগালের এই তারকা।
রোনালদোর এই বক্তব্য এসেছে পর্তুগাল দলে নতুন কোচের অধীনে নতুন অধ্যায় শুরুর সময়। রবার্তো মার্তিনেজের বিদায়ের পর জর্জে জেসুস পর্তুগালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন কোচের প্রথম দল ঘোষণার সময় রোনালদোকে রাখা হয়েছে। ফলে ৪১ বছর বয়সেও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় তিনি রয়েছেন। তবে নতুন কোচের দৃষ্টিতে রোনালদোর অতীতের সাফল্যের চেয়ে বর্তমান পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স আরও বেশি আলোচনায় থাকবে।
জর্জে জেসুস রোনালদোসহ পর্তুগালের দল ঘোষণা করেছেন। রোনালদোকে দলে রাখার পাশাপাশি কোচের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এসেছে যে পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়দের মতো তাকেও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। রোনালদোর ক্যারিয়ার এবং অর্জন অন্যদের তুলনায় আলাদা হলেও তার বর্তমান পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে রোনালদোর নিজের বক্তব্যও কোচের এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ তিনি নিজেই বলছেন, এখনো প্রতিদিন তাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তিনি জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।
নতুন কোচের অধীনে পর্তুগালের সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্তুগাল ওয়েলসের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে দলটি। ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৪ অক্টোবর আবার নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। এসব ম্যাচে রোনালদোর ভূমিকা ও পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই নজরে থাকবে। বিশেষ করে নতুন কোচের অধীনে তিনি কীভাবে নিজেকে দলের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
রোনালদোর বক্তব্যে তার নিজের লক্ষ্যও স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় দল এবং ক্লাব—দুই পর্যায়েই গোল করার সক্ষমতাকে নিজের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখার কথা জানানোর পরও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অধ্যায় আপাতত শেষ হয়নি। পর্তুগালের নতুন কোচের পরিকল্পনায় তিনি এখনো রয়েছেন এবং দলের হয়ে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে তার অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনো নিজেকে প্রমাণ করার মানসিকতা ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য ও রেকর্ড অর্জন করলেও তিনি নিজের জায়গাকে নিশ্চিত ধরে নিতে চাইছেন না। বরং প্রতিদিনের পারফরম্যান্স, গোল এবং মাঠের অবদান দিয়ে নিজের যোগ্যতা দেখানোর কথাই বলেছেন। নতুন কোচ জর্জে জেসুসের অধীনে পর্তুগালের যাত্রায় তাই রোনালদোর পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!