দেশের অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকেদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ৪ হাজার ২৪০ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি, মতামত বা উপযুক্ত দাপ্তরিক প্রমাণ থাকলে তা নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুদান পাওয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রকৃত সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কর্মরত শিক্ষকদের তথ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫৯১টি দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ের সাম্প্রতিক যাচাইয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একটি তদন্তে ১ হাজার ২৫৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে পুরোনো তালিকার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের তথ্য নতুন করে যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪০ জন শিক্ষকের তথ্য এখন চূড়ান্ত যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। কে কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে চালু আছে কি না এবং তালিকায় থাকা ব্যক্তির তথ্য সঠিক কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

তালিকায় থাকা শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে কিংবা কোনো উপযুক্ত দাপ্তরিক প্রমাণ থাকলে তা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫৯১টি দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে কেন ১ হাজার ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেল। অর্থাৎ দুই তালিকার মধ্যে ৩৩৩টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ছবিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের তালিকা থেকে ১ হাজার ৫৯১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে অনুদান দেওয়া শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে ১ হাজার ২৫৮টি প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং পুরোনো তালিকার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের পার্থক্যের কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খসড়া তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪০ শিক্ষকের তথ্যও যাচাই করা হবে। এর ফলে কোন শিক্ষক কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না এবং তালিকায় থাকা ব্যক্তির তথ্য সঠিক কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি বা দাপ্তরিক প্রমাণ থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত যাচাই শেষে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত তথ্যের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!