আইফোনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার নিয়ে করা মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এই অর্থ কোনো একজন ব্যবহারকারীকে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে করা ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির জন্য গঠিত তহবিল থেকে যোগ্য আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, অ্যাপল আইফোন ১৬ সিরিজ বাজারে আনার সময় অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও সিরির কিছু এআই সক্ষমতা নিয়ে প্রচার করেছিল। এসব সুবিধার মধ্যে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট বুঝতে পারা, পর্দায় থাকা তথ্য শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে সিরির আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো ফিচারের কথা বলা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রত্যাশা অনুযায়ী এসব সুবিধা সময়মতো পাওয়া যায়নি। অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কোনো ধরনের ভুল বা আইনভঙ্গ স্বীকার না করেই নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিষ্পত্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনা কিছু আইফোনের মূল ক্রেতারা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন ১৬, ১৬ই, ১৬ প্লাস, ১৬ প্রো ও ১৬ প্রো ম্যাক্স। যোগ্য ডিভাইসটি ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কিনতে হবে এবং পুনর্বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কেনা হলে তা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না।
যোগ্য গ্রাহকদের প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বৈধ দাবির মোট সংখ্যা, আইনজীবীদের ফি, প্রশাসনিক ব্যয়সহ অন্যান্য খরচের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ কমতে বা বাড়তে পারে। সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ পেতে হলে যোগ্য গ্রাহককে নিজে বৈধ দাবি দাখিল করতে হবে। ২০২৬ সালের ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে বর্তমান যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি যোগ্য আইফোন কেনা বা মালিকানার তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বরও ব্যবহার করতে হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কেনা আইফোন এই নিষ্পত্তির আওতায় নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশে বা অন্য কোনো দেশে কেনা আইফোনের ব্যবহারকারীরা এই নির্দিষ্ট ক্লাস অ্যাকশন নিষ্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন না।
এখনো এই নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। আদালত আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি করবে। সেখানে নিষ্পত্তিটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পর্যাপ্ত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। অনুমোদনের পরও আপিল হলে অর্থ পরিশোধে আরও সময় লাগতে পারে।
নিষ্পত্তির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আদালত প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে বৈধ দাবি দাখিলকারী যোগ্য গ্রাহকদের মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ বিতরণ করা হবে। তাই ২৫ কোটি ডলারের পুরো অর্থ প্রত্যেক ব্যবহারকারীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে—বিষয়টি এমন নয়; প্রত্যেক যোগ্য ডিভাইসের জন্য নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!