পটুয়াখালীর বাউফলে ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ বালুমহাল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বালুমহালটি কী প্রক্রিয়ায় ঘোষণা করা হয়েছে, এর পেছনে কী কী নথি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সারায়াত-২ শাখা। চিঠিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে তেঁতুলিয়া নদী নিয়ে হাইকোর্টে করা রিটের আদেশের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই পর্যায়ে বালুমহালটি সরাসরি বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এর আগে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ওই এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে বালুমহাল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
রিটের শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সরকারি দপ্তরের নথিতে ভুল বা অপ্রচলিত নামে, বিশেষ করে ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে রেকর্ডভুক্ত এলাকাগুলো যাচাই করে প্রকৃত ‘তেঁতুলিয়া নদী’ নামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে বালুমহাল ঘোষণা করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ঘোষণার আগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত নদ-নদীর তালিকায় তেঁতুলিয়া (বরিশাল) ও বুড়া গৌরাঙ্গ নামে পৃথক নদীর উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় বাউফল উপজেলার কারখানা নদীর প্রবাহ তেঁতুলিয়া (বরিশাল) থেকে বুড়িশ্বর-পায়রা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। আর দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী এলাকায় বুড়া গৌরাঙ্গ নদীর প্রবাহ দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!