২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলায় জাহাজ আগমন, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ অর্থবছরে বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
সভায় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বন্দরের কার্যক্রমের প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্দরকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে মোট ১২২ কোটি ৫১ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ মেট্রিক টন। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জন হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্য ছিল ২৫ হাজার টিইইউ। সেখানে মোংলা বন্দরে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় কনটেইনার ব্যবস্থাপনা বেড়েছে ৮ হাজার ২৫৮ টিইইউ। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বন্দরটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আয় করেছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
মোংলা বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে মোট ১২ হাজার ৭৫ ইউনিট রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬ ইউনিট।
মতবিনিময় সভায় বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বন্দর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক চাহিদা মোকাবিলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা বন্দরে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। এর সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন সূচকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শফিকুল ইসলাম সরকার, ভারপ্রাপ্ত সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) শেখ শওকত আলী, পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ বিল্লাহ, সচিব (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. কামাল হোসেন, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপপরিচালক (জনসংযোগ) সালাহ উদ্দিন কবির, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এবং জুনিয়র অফিসার মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সূচকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জাহাজ আগমন, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতেও বেড়েছে কার্যক্রম।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!