পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করাই এতদিনের পরিচিত প্রক্রিয়া। তবে নতুন নির্দেশনায় এর সঙ্গে আরও কিছু বাধ্যতামূলক ধাপ যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি থানায় জিডি করতে হবে। এরপর জিডির সত্যতা যাচাই করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নিয়ম করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট থানা জিডির তথ্য যাচাই করবে। যাচাই শেষে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

তবে কোনো কারণে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও আবেদনকারীকে অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হবে না। সে ক্ষেত্রে জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

নতুন ব্যবস্থার পেছনে পাসপোর্টের অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জিডি যাচাইয়ের সময় কোনো পাসপোর্ট ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে, সেটি দ্রুত ফেরত বা উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS)-এ তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও অবহিত করা হবে।