নওগাঁর মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবামূলক কাজ করে আসছেন আজাহার আলী মন্ডল। সরকারি দায়িত্বে না থেকেও ট্রাফিক পুলিশের পোশাক পরে হাতে লাঠি নিয়ে প্রতিদিন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন তিনি। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য।
দূর থেকে দেখলে তাকে পুলিশের সদস্য মনে হলেও আজাহার আলী কোনো সরকারি ট্রাফিক পুলিশ নন। নিজের দায়িত্ববোধ ও মানবিক চিন্তা থেকেই বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
মান্দা উপজেলার লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব আজাহার আলী একসময় ঢাকায় রিকশা চালাতেন। প্রায় ৪০ বছর আগে মহাদেবপুর উপজেলার বড় ব্রিজ এলাকায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় এক মা ও তার মেয়ের মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
আজাহার আলী বলেন, “ওই দুর্ঘটনায় এক মা ও তার মেয়েকে নিজের চোখের সামনে মারা যেতে দেখি। ঘটনাটি আমার বিবেককে নাড়া দেয়। সেই থেকেই রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন শুরু করি।”
স্থানীয়রা জানান, মান্দা ফেরিঘাট এলাকার চারমাথা মোড়ে প্রতিদিন যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন আজাহার আলী। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে তিনি নিজ উদ্যোগে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখেন। পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদে সড়ক পারাপারেও সহযোগিতা করেন।
তবে মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করতে গিয়ে সম্প্রতি নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী। আজাহার আলীর ভাষ্য, দায়িত্ব পালন করার সময় একটি মোটরসাইকেলে চারজন আরোহী ছিলেন। তাদের থামার সংকেত দিলে মোটরসাইকেলটি না থেমে তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে আরোহীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে চিকিৎসার খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আশায় সরকারি ও আধা-সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন আজাহার আলী।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ ২৬ বছর কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মানুষের সেবায় কাজ করে যাওয়া আজাহার আলীর চিকিৎসায় সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
মানবিক সহায়তা করতে আগ্রহীরা আজাহার আলী মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
নগদ/বিকাশ: ০১৭৩৪-৪৪৫১৪১
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!