চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে জমা টাকার ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেবে সরকার। জমার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে জিপিএফের মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) চলতি অর্থবছরের জন্য জিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগের।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা করা চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ শতাংশ।
অর্থাৎ জিপিএফে যাঁদের জমার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা বা তার কম, তাঁরা সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। জমার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমবে।
জিপিএফের আওতায় থাকা সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফ চালু রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে সিপিএফের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন।
জিপিএফ ও সিপিএফ—দুই ব্যবস্থাতেই কর্মীর নিজস্ব জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার নির্ধারিত অংশ থাকে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সিপিএফে মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ দিয়ে থাকে। কর্মীর জমা অর্থের সঙ্গে নির্ধারিত অংশ যুক্ত হয়ে তার ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত প্রভিডেন্ট ফান্ডকে জিপিএফ বলা হয়। চাকরিজীবীরা নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ এই তহবিলে জমা রাখেন। চাকরির মেয়াদ শেষে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে জমা অর্থ ও অর্জিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বা সরকারি চাকরিতে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেখানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার জন্য সিপিএফসহ বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ তহবিল চালু রয়েছে। সাধারণত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিপিএফ ব্যবস্থা দেখা যায়।
সিপিএফ ব্যবস্থাতেও কর্মী তাঁর মূল বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ জমা দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত হারে অর্থ প্রদান করে। চাকরি শেষে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মী নিজের জমা, প্রতিষ্ঠানের অংশ এবং অর্জিত মুনাফা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ পান।
চলতি অর্থবছরে জিপিএফের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার ফলে আগের অর্থবছরের মতোই জমার পরিমাণ অনুযায়ী ১১ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!