জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, ভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত ১৮ ও ২০ পয়সাই শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সোমবার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাসভাড়া সমন্বয় নিয়ে বৈঠক হয়। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বৈঠকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ভাড়ার প্রস্তাব তৈরি করা হয়।

এবার ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যান্য পরিচালন ব্যয় এবার হিসাবের সঙ্গে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ হিসাবে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ে। এবার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা সড়ক পরিবহন ও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানান। বিআরটিএর বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ করা হয়। তাদের আশঙ্কা, নতুন দামে জ্বালানি কিনে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এতে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, আগেরবার জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। এরপর যন্ত্রাংশসহ পরিবহনের অন্যান্য খরচও বেড়েছে। তবে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে এবার শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৫৩ পয়সা। মিনিবাসে এই হার ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। প্রস্তাব অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসে নতুন ভাড়া হলে এই হার আরও ২০ পয়সা বাড়বে। তবে কোন হারে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ হবে, সেটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

দূরপাল্লার পথে সব বাসের ভাড়াও একই হারে হবে না। অনেক নন-এসি বাসে আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০ বা তারও কম করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক বেশি জায়গা রাখার এসব বাসের ভাড়া সাধারণ বাসের চেয়ে বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে সেতু ও সড়কের টোলও যুক্ত হবে।

তবে এসি বাস ও মালবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এসব যানবাহনের ভাড়া মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকেই নির্ধারণ করা হয়। বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও টেম্পোসহ বিভিন্ন যানবাহনের একটি বড় অংশ ডিজেলচালিত।

বিআরটিএর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৮ ও ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আলোচনার সময় প্রস্তাবিত হার কিছুটা কমতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমেই নতুন বাসভাড়ার চূড়ান্ত হার জানা যাবে।

গত রোববার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এবার নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর আবারও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলো।