বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগে দেখা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য তার সামনে সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র পাচ্ছেন না তিনি।
নাহিদ রানাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল বিগ ব্যাশের দুটি দল—অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডস। তবে বাংলাদেশের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি এবং নাহিদ রানার ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে এবার অস্ট্রেলিয়ার এই প্রতিযোগিতায় খেলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিগ ব্যাশে খেলার অপেক্ষায় থাকা নাহিদ রানার সেই সুযোগ আপাতত পিছিয়ে গেল।
নাহিদ রানা বাংলাদেশের ক্রিকেটে দ্রুতগতির বোলিংয়ের অন্যতম আলোচিত নাম। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের গতি ও বোলিং দক্ষতার মাধ্যমে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করার সক্ষমতা তাকে অন্য অনেক পেসারের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
নতুন বলে গতি ও বাউন্সের পাশাপাশি পুরোনো বলেও কার্যকর হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তার। এ কারণেই বিদেশি বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিগ ব্যাশের অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসও নাহিদ রানাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তার মতো একজন তরুণ ও গতিময় পেসারকে নিজেদের দলে পাওয়ার বিষয়টি দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল।
তবে নাহিদ রানার ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার ওপর শারীরিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন দ্রুতগতির পেসারের ওপর শারীরিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। নাহিদ রানা বাংলাদেশের টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। সামনে বাংলাদেশের একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে।
এসব ম্যাচে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই জাতীয় দলের দায়িত্বের পাশাপাশি আরেকটি বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেললে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই এবার তাকে অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাহিদ রানার সাম্প্রতিক চোটের বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি চোটে পড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলেছে। চোট থেকে ফিরে একজন পেসারকে ধীরে ধীরে ম্যাচ খেলার উপযোগী করে তোলা হয়। বিশেষ করে দ্রুতগতির বোলারদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেললে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
তাই নাহিদ রানাকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা এবং জাতীয় দলের দায়িত্বকে সামনে রেখে আপাতত বিদেশি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা থেকে তাকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতি। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর দ্রুতগতির বল দিয়ে চাপ তৈরি করার পাশাপাশি বাউন্স ব্যবহার করার ক্ষমতাও রয়েছে তার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বোলিংয়ে বৈচিত্র্যও দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পেস আক্রমণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ একজন বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতীয় দলের জন্য এমন একজন তরুণ পেসারকে দীর্ঘ সময় সুস্থ ও ফিট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তার ক্ষেত্রে ম্যাচের সংখ্যা ও বোলিংয়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ নাহিদ রানার জন্য শুধু বিদেশি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয় ছিল না, এটি অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনেরও বড় সুযোগ ছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলে সেখানকার পিচ, আবহাওয়া ও বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা একজন তরুণ পেসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের আগ্রহ সেই সুযোগেরই ইঙ্গিত দিয়েছিল।
তবে জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে এবার সেই সুযোগটি গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে নাহিদ রানাকে এবার বিগ ব্যাশে দেখা না গেলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আবারও এমন সুযোগ আসতে পারে।
নাহিদ রানা নিজেও বিগ ব্যাশে খেলার আগ্রহের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এবার অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে হবে। জাতীয় দলের হয়ে সামনে থাকা ম্যাচগুলোতে ভালো পারফর্ম করা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে তার শারীরিক অবস্থা, জাতীয় দলের খেলার সূচি এবং বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনা করে আবারও বিগ ব্যাশ বা অন্য কোনো বিদেশি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ফলে নাহিদ রানার বিগ ব্যাশে খেলার সম্ভাবনা আপাতত থেমে গেলেও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ভবিষ্যতের সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
বরং জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় তাকে ধরে রেখে দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সুযোগের জন্য প্রস্তুত রাখাই এখন মূল বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!