জ্বালানি তেলের দাম এক দফায় লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নতুন দামে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে পরিবহন, কৃষি, পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা। একই সময়ে অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে মার্চের তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা, অকটেনে ৪৫ টাকা, পেট্রোলে ৪৪ টাকা এবং কেরোসিনে ৪৩ টাকা বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন পরিবহন পরিচালনায় জ্বালানি ব্যয় বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব ভাড়া ও পণ্য পরিবহন খরচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনে ব্যয় বাড়লে বাজারজাতকরণ ব্যয়ও বাড়তে পারে।
কৃষি খাতেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেচযন্ত্র, কৃষিপণ্য পরিবহন ও অন্যান্য কাজে জ্বালানি ব্যবহারের কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গেলে তার একটি অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়তে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকির বিষয়টিও মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও বিপিসির আর্থিক বিষয় বিবেচনার পাশাপাশি দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ে।
নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে গেলে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!