আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সময় দেশে বাড়ানো জ্বালানি তেলের মূল্য প্রত্যাহার করে আগের দাম বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।
সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়ার মধ্যে দেশের বাজারে নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি যাতায়াত ও যোগাযোগ খাতে পড়ে। এর পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়ার কারণে বাজারে পণ্য ও সেবার দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মাথায় সরকার দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে আগের দাম বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে সরকারের কোথাও ব্যবসা করা এবং কোথাও ভর্তুকি দেওয়াই বাস্তবতা। দেশের আর্থিক সংকটের সময়ে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে অর্থনীতির কার্যক্রম সচল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর মাধ্যমে সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার দিনই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
তবে দেশের বাজারে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে এসব ব্যয় সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনা করে বাড়তি মূল্য প্রত্যাহার করা হলে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!