দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি-সংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায়ের পর নওগাঁয় তফসিলভুক্ত জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে জমিতে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযানে আদালত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে ২০১০ সালে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার বাদী মো. রেজানুর রহমান আদালত থেকে রায় পান। এরপর আদালতের রায় অনুযায়ী তফসিলভুক্ত সম্পত্তির দখল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি নওগাঁ সদরের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মামলায় বাদী মো. রেজানুর রহমানের পক্ষে রায় হওয়ার পর নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমিটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞ এডভোকেট কমিশনার এস এম সারোয়ার এবং বিজ্ঞ আদালতের নাজির মো. মাইনুল হোসেনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি খননযন্ত্র ব্যবহার করে তফসিলভুক্ত জমিতে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে টিনের তৈরি স্থাপনা, ইটের দেয়ালসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা হয়। খননযন্ত্র দিয়ে একে একে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পাশাপাশি জমির জায়গা পরিষ্কার করা হয়। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই আদালত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায় অনুযায়ী মামলার বাদী মো. রেজানুর রহমানের দখল কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ কিংবা দখল কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় পাওয়ার পর জমিটি দখলমুক্ত করার এ কার্যক্রমকে মামলার রায় বাস্তবায়নের একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য এবং জমি নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত ইতিহাস আদালতের নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের উপস্থিতিও দেখা যায়। আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষে তফসিলভুক্ত জমিটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!