মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে স্মার্ট কার্ড প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় দেড় থেকে দুই মাসের পরিকল্পনা, গবেষণা, উন্নয়ন ও দলগত প্রচেষ্টায় প্রকল্পটির কার্যকর সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে MIFARE DESFire EV3 প্রযুক্তি। এটি উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন একটি স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি, যা নিরাপদ অথেনটিকেশন ও ট্রানজেকশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহারের উপযোগী। প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি পয়েন্ট অব সেল (POS) মেশিনও তৈরি করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ওয়ার্ডপ্রেসভিত্তিক ওয়েব পোর্টালকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ডায়নামিক ওয়েব পোর্টালে রূপান্তর করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রযুক্তি ও আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে তৈরি নতুন পোর্টালে নিজস্ব ড্যাশবোর্ডসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সেবা আরও গতিশীল, সহজলভ্য ও ব্যবহারবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় চালু করা হয়েছে EV3 স্মার্ট কার্ড সিস্টেম। এই কার্ড ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় নগদ অর্থ ছাড়াই পেমেন্ট করার সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবাকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারে টপ-আপ ও চেক-ইন, বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি থেকে বই উত্তোলন ও ফেরত, ডিজিটাল উপস্থিতি, আবাসিক হলে প্রবেশ, খাবারের টোকেন ক্রয় এবং দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন সেবা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একাধিক সেবাকে একটি সমন্বিত স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটির ব্যাকএন্ড লিড হিসেবে কাজ করেছেন নূর মাহমুদ উল আলম তাসিন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. তাহের শেখ এবং হার্ডওয়্যার লিড হিসেবে কাজ করেছেন অনিমেষ বরুয়া মুগ্ধ।

প্রকল্পটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. এএসএম দেলোয়ার হোসাইন। কো-ইনভেস্টিগেটর হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান ও অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান তালুকদার।

প্রকল্পটির বিষয়ে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তাহের শেখ বলেন, মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দেড় মাসের নিরলস পরিশ্রমের পর তাদের স্মার্ট কার্ড প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শুধু একটি ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা নয়; ধীরে ধীরে এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ক্যাম্পাস ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করাই তাদের লক্ষ্য।

সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে তৈরি এ প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবাকে আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে পরিকল্পিত সেবাগুলো স্মার্ট কার্ডের আওতায় এলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের প্রক্রিয়াও আরও সমন্বিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!