জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আদৌ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, রংপুর ও খুলনা বিভাগে নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে বিএনপির প্রার্থীদের বদলে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নির্বাচনী নথি উপস্থাপন করেননি। তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ ও সন্দেহ হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান ভালো দাবি করে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভালো। দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নেতাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন—এটি অবিশ্বাস্য কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচনের আগে রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেখানে এমনভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে ভোটাররা বিএনপিকে ভোট দিলেও ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী দেখানো যায়। এ ঘটনাকে তিনি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জামায়াতের পক্ষ থেকেও নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরে জামায়াতের আমির ফলাফল মেনে নেন। এ প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলাম আসলে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন কি না, নাকি অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের জয়ী হিসেবে দেখিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই নেতা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনে জয়ী না হয়ে থাকলে তাঁদের প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করা হলে তাঁরা নির্বাচনের ফল মেনে নিতেন না—এমন কথাবার্তা মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাঁর দাবি, এ কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা নির্বাচনী প্রকৌশল করেছিল কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
রংপুর ও খুলনা বিভাগে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয় নিয়েও নিজের সন্দেহের কথা জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ দুই বিভাগে জামায়াতের প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
খুলনাকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন করেন, সেখানে জামায়াতের এত প্রার্থী কীভাবে জয়ী হলেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
তবে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের এসব অংশ তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও সন্দেহ। নির্বাচনে ভোটের ফলাফল কারচুপি বা কোনো প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবে বিজয়ী দেখানোর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল, নির্বাচনী নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পর্যালোচনা প্রয়োজন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের সঙ্গে এমন কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খাঁন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দুই নেতার রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর এসব বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!