উত্তর আন্দামান সাগরে সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ। অনুকূল পরিবেশ পেলে আগামী কয়েক দিনে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। তবে এখনই এর চূড়ান্ত গতিপথ বা শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় হয়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যেও উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টির কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগর ও আশপাশে তৈরি হওয়া সিস্টেমটি পরবর্তী কয়েক দিনে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হকের মতে, বর্তমান গাণিতিক মডেল অনুযায়ী সিস্টেমটির সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে আবহাওয়া একটি পরিবর্তনশীল বিষয় হওয়ায় এখনই সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে এর গতিপথ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হলেও এর প্রভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কোনো আবহাওয়াব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর তার গতিপথ, শক্তি ও বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব আরও নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে। তাই আপাতত সিস্টেমটির পরবর্তী গতিবিধির দিকে নজর রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।