কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের ক্লু শনাক্ত করা, ঘটনার মোটিভ বের করা এবং জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ননস্টপ কাজ করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এ কথা বলেন। তিনি জানান, তদন্তে কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয় যাচাই করতে সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার উদ্দেশ্যসহ তদন্তের অন্যান্য বিষয় সামনে আনা হবে।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। একটি ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনের মোটিভসহ সব তথ্য তদন্ত করে বের করা হবে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোন, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রতীম কোথায় ছিল, তার অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে আটক ব্যক্তিকে এখনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ সুপার বলেন, আটক ব্যক্তি নির্দোষও হতে পারেন, আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতও থাকতে পারেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যাতে কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১টার দিকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতীম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তে নামে পুলিশ। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামের এক সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার মোবাইল ও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত আলামত, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করা হবে। প্রকৃত হত্যাকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!