বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের গত অর্থবছরের লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ হিসেবে মোট ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে এসব অর্থের চেক হস্তান্তর করেন।

ঢাকায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তহবিলে অর্থ দিয়েছে, তাদের মধ্যে ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড দিয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া সিটিব্যাংক এন এ ৩ কোটি, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড ১ কোটি ৩১ লাখ, নুভিস্তা ফার্মা পিএলসি ২৭ লাখ এবং সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি ৮ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তাদের বার্ষিক মুনাফার নির্দিষ্ট অংশ শ্রমিক কল্যাণে গঠিত এই তহবিলে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনে বছর শেষে মুনাফার ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ এই তহবিলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চেক গ্রহণের সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দুস্থ ও অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তহবিলের ভূমিকা রয়েছে।

নির্ধারিত লভ্যাংশের অংশ নিয়মিতভাবে তহবিলে জমা দেওয়ায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী অন্যান্য কোম্পানিকেও তাদের নির্ধারিত অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অর্থ জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ছয় প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তাসহ তহবিলের নির্ধারিত কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।