দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ভেটিং শেষ হওয়ার পর সেটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়। এরপর মুদ্রণ ও প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শনিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানানো হলেও সেটি জারি হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

পরবর্তী ধাপে বর্ধিত বেতনের আরও অংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর বেতন বৃদ্ধির পুরো অংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হওয়ায় প্রাপ্য বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পাওয়ার বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনে রাখা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা হওয়ায় এ গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হওয়ায় সেখানে বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পেনশন সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামোর সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো পরিবর্তনের ফলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।