বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘Universo Valdano’ অনুষ্ঠানে জর্জ ভালদানোর সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য দ্বৈরথগুলোর একটি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনো রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হলে তিনি সেটি চান কি না। উত্তরে ইয়ামাল স্পষ্টভাবেই জানান, তিনি এমন ম্যাচ খেলতে চান। তার বক্তব্যে বার্সেলোনা-রিয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতি তার আগ্রহ আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
ইয়ামালের ভাষ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ ঘরোয়া ফুটবলে বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনো তাদের দেখা হয়নি। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় দুই স্প্যানিশ জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়া তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আলাদা আকর্ষণের বিষয়। ইয়ামালও সেই সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী। তিনি বলেন, তারা এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে খেলেনি এবং তিনি এই প্রতিযোগিতায় তাদের মুখোমুখি হওয়ার আশা করেন।
সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল এল ক্লাসিকোর তীব্রতা নিয়েও কথা বলেন। বার্সেলোনার একাধিক সতীর্থের রিয়ালের বিপক্ষে প্রথম অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মার্কাস রাশফোর্ডের কথাও উল্লেখ করেন। ইয়ামালের বর্ণনা অনুযায়ী, রাশফোর্ডের প্রথম এল ক্লাসিকো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। পরে ফিরতি ম্যাচে রাশফোর্ড ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন এবং ইয়ামালের মতে, তখন তিনি এই ম্যাচের ভিন্ন মাত্রা উপলব্ধি করেন।
বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের জন্য এল ক্লাসিকোর গুরুত্ব নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ইয়ামাল। তার মতে, লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা একজন খেলোয়াড় প্রথম এল ক্লাসিকো খেললেই এই ম্যাচের বিশেষত্ব বুঝতে পারে। তিনি ম্যাচটির তীব্রতা বোঝাতে ‘যুদ্ধ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। অবশ্য এটি ইয়ামালের ব্যক্তিগত বর্ণনা; কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচ-সংজ্ঞা নয়। তার বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বার্সেলোনা-রিয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে আলোচনায় ইয়ামাল শুধু রিয়াল মাদ্রিদ নয়, বার্সেলোনার কিছু দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল বার্সেলোনার জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। এমন দলের বিপক্ষে খেলতে বেশি দৌড়াতে হয় এবং পুরো ম্যাচজুড়ে মনোযোগ ধরে রাখতে হয় বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচকে তিনি ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন, যেখানে কৌশল ও বল দখল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়েও ইয়ামালের কাছে জানতে চাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনকে বেছে নেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, একটি শিরোপা জেতার পর পরেরবার সেটি ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দল শিরোপা জয়ের পর আত্মতুষ্টিতে ভুগলে সেটিই সমস্যার কারণ হতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইয়ামাল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যের কঠিন দিকটিও তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে ইয়ামালের বক্তব্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে বার্সেলোনার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সম্ভাব্য ইউরোপীয় দ্বৈরথের প্রতি তার ব্যক্তিগত আগ্রহ—দুটিই সামনে এসেছে। ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরোনো হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও রিয়ালের মুখোমুখি লড়াই এখনো দেখা যায়নি। ইয়ামাল সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে দেখতে চান। ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপের মঞ্চে দুই স্প্যানিশ জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এই বক্তব্য আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!