ভারতের নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুই উপদলের জন্য আলাদা নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচন সামনে রেখে দলটির নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদল ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে। এই গোষ্ঠীর জন্য ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী উপদল ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে পরিচিত হবে এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘খাম’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত দুই পক্ষই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নাম ও পুরোনো প্রতীক নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। দলীয় পরিচয় নিয়ে দুই পক্ষের দাবির বিষয়ে কমিশনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী আদেশে দুই পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলটির পুরোনো ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত রাখে। আসন্ন উপনির্বাচনে যাতে দুই পক্ষ আলাদা পরিচয়ে অংশ নিতে পারে, সে জন্য বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। এরপর উভয় পক্ষের দেওয়া বিকল্পের মধ্য থেকে নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে কমিশন।
নতুন এই ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এসব আসনে আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও মেঘালয়েও নতুন নাম ও প্রতীকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকেও ওই তিন রাজ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটেই কমিশনকে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৯৬৮ সালের Election Symbols (Reservation and Allotment) Order-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে।
উপনির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই চূড়ান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত দুই পক্ষকে পৃথক পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচনী ব্যালটে দুই গোষ্ঠীর প্রার্থী ও প্রতীক আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোন পক্ষ ভবিষ্যতে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহারের অধিকার পাবে, তা নির্ধারিত হয়নি। মূল দলীয় পরিচয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রস্তুতিও এগোচ্ছে। নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দের ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটে দুই গোষ্ঠীকে পৃথক পরিচয়ে দেখা যাবে। ভোটগ্রহণের পর ৯ অক্টোবর ফল গণনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম ও প্রতীকের পরিবর্তে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে নতুন পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। তবে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে মূল বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান কী হবে, তা নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!