বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এই ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তিনটি নাম—ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। তিনজনই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। ইংল্যান্ডভিত্তিক ফরোয়ার্ড ফারহান, জাপানভিত্তিক শুকি এবং জিদানের অন্তর্ভুক্তি দলটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুনদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ আসন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিন নতুন মুখের মধ্যে ফারহান আলী ওয়াহিদকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডে খেলেন এই ফরোয়ার্ড এবং আসন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আক্রমণভাগে তাকে একটি নতুন বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি ফারহানের গোল করার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, গোলের সামনে তার দক্ষতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কোচ একই সঙ্গে তার ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন। ফারহান বর্তমানে ইংল্যান্ডের বোরহ্যাম উডে খেলছেন এবং প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ায় সরাসরি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে শুকি ইতোফুসাও প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। আক্রমণভাগে তার অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের সামনে আরও একটি বিকল্প তৈরি করেছে। স্কোয়াডে তার সঙ্গে রয়েছেন রাকিব হোসাইন, শেখ মোরসালিন, ফাহামেদুল ইসলাম এবং মিনহাজুল করিম শাদিন। নতুনদের মধ্যে জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফকে রাখা হয়েছে রক্ষণভাগে। ফলে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন তিন তরুণ খেলোয়াড়। প্রথমবার জাতীয় দলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়া তাদের জন্য ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হয়ে উঠেছে।

গোলরক্ষক বিভাগেও এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। মিতুল মারমা, মো. সুজন হোসাইন এবং মো. মেহেদী হাসান শ্রাবণকে চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে। তবে সাইফ কেরাওয়ালা এবার দলের অংশ হতে পারছেন না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তিনি চূড়ান্ত দলে নেই। ফলে তিন গোলরক্ষকের ওপরই এখন দায়িত্ব থাকবে দলের গোলপোস্ট সামলানোর। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এই বিভাগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রক্ষণভাগে বাংলাদেশের দলে রয়েছেন টপু বর্মণ, মো. শাকিল আহাদ টপু, মো. সাদ উদ্দিন, মো. রহমত মিয়া, তারিক রাইহান কাজী, এস এম মঞ্জুরুর রহমান, জায়ান আহমেদ এবং জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। মাঝমাঠে রয়েছেন জামাল ভূঁইয়া, মো. সোহেল রানা, সোহেল রানা, মো. হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী ও শামিত শোমে। এই তালিকায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তুলনামূলক তরুণ খেলোয়াড়দেরও রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ম্যাচে পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচিং স্টাফের সামনে একাধিক সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। দলের নেতৃত্ব ও মাঝমাঠের অভিজ্ঞতার দিক থেকেও জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম বিভাগের গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশ খেলবে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে, এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি। তিনটি ম্যাচই জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও নতুনত্ব—দুইয়েরই সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ প্রথমবার জাতীয় দলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন। ফারহান সরাসরি ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, আর সাইফ কেরাওয়ালার পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গোলরক্ষক বিভাগে পরিবর্তন এসেছে। এখন এই নতুন মুখেরা জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাদের সমন্বয় মাঠে কেমন হয়, সেটিই হবে আসন্ন আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!