বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান মাত্র ১৬ বছর বয়সেই দেশটির সিনিয়র জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন চক্রে প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্র দলের জন্য তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সুলিভানসহ একাধিক নতুন মুখকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। ফলে অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার।
২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম নেওয়া সুলিভানের ফুটবল প্রতিভা খুব অল্প বয়সেই নজর কাড়ে। তিনি ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে পেশাদার ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণভাগের বিভিন্ন জায়গাতেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, গতি ও সৃষ্টিশীল পাসিংয়ের কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুলিভানের সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি হলো তার বাংলাদেশি পারিবারিক শিকড়। তার মা বাংলাদেশি-জার্মান বংশোদ্ভূত। তার পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে তার উত্থান বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। শুধু কাভান নন, তার বড় দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভানও ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবল দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে সুলিভান পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করে সুলিভান আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর লিগ সকারে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ইতিহাস তৈরি করেন। এত কম বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের পেশাদার ফুটবলে খেলার সুযোগ পাওয়া তার অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে নিয়মিত পেশাদার ফুটবলের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন তিনি।
২০২৬ সালে সুলিভানের পারফরম্যান্স তার জাতীয় দলের দরজা আরও খুলে দেয়। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মাঠে নেমে গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপেও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একটি ম্যাচে দুই গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে তিনি প্রতিযোগিতায় নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় নিয়ে আসে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর নজরে আসেন সুলিভান। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আন্তর্জাতিক চক্রে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদেরও সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় সুলিভানের মতো প্রতিভাবান তরুণদের জাতীয় দলের পরিবেশে যুক্ত করা হচ্ছে। ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে সুলিভানসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষায়।
জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেও সুলিভানের অভিষেক এখনো নিশ্চিত নয়। ক্যাম্পে অনুশীলনের পর কোচের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে মূল একাদশে কিংবা বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হতে পারে। তবে ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেন। তাই তার সম্ভাব্য অভিষেকের দিকেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে।
সুলিভানের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর বাংলাদেশের জন্যও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের জার্সিতে বাংলাদেশি শিকড়ের একজন তরুণের উঠে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও তার ক্যারিয়ার অনুসরণ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এখন সবার অপেক্ষা কাভান সুলিভানের আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র জাতীয় দলের ক্যাম্পে জায়গা পাওয়ার পর তার সামনে খুলে গেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন দরজা। পেশাদার ক্লাব ফুটবলে দ্রুত উত্থানের পর জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক শিকড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল অঙ্গনে নিজের প্রতিভা—দুই পরিচয়কে সঙ্গে নিয়ে সুলিভানের সামনে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করার নতুন অধ্যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!