সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সব সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের দপ্তরে আলাদাভাবে চালু থাকা হাজিরা ব্যবস্থাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর সচিবদের সভায় এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং শূন্য পদ পূরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কখন অফিসে প্রবেশ করছেন বা বের হচ্ছেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা নয়। উপস্থিতির তথ্যকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কর্মঘণ্টা ও দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পৃথকভাবে ডিজিটাল বা বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থাকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা একীভূত করার ক্ষেত্রে আইসিটি বিভাগ সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় একটি ড্যাশবোর্ডে বিভিন্ন দপ্তরের হাজিরা তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে। সরকারি ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার একাধিক ড্যাশবোর্ড যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় ড্যাশবোর্ডে ১১টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং ৭৬টি সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৭টি ড্যাশবোর্ডের তথ্য কাঠামো রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে উপস্থিতির তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ৫৬৮টি কার্যালয়েও কেন্দ্রীয় বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থার ব্যবহার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষেও ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেখানে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ, আঙুলের ছাপ, আরএফআইডি কার্ড ও পাসওয়ার্ডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাজিরা নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগও ফেস রিকগনিশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ক্লাউডভিত্তিক অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর হাজিরা কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন করেছে।
মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরেও ডিজিটাল হাজিরা সম্প্রসারণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র স্থাপন ও নিয়মিত ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ব্যবস্থার ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ফলে সরকারি অফিসে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির তথ্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!