ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কোনো সেবা নিয়ে অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা জানানোর জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা রয়েছে। সরাসরি শুনানি বা সাক্ষাতের মাধ্যমে করা অভিযোগ এক দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তবে তদন্তের প্রয়োজন হলে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
অধিদপ্তরের ২০২৬–২০২৭ সালের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে নাগরিকদের অভিযোগ ও প্রতিকার সংক্রান্ত সেবার সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী লিখিত আবেদন বা অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। অভিযোগের সঙ্গে নিজের দাবি বা অভিযোগের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও দিতে হবে।
এই সেবার জন্য আলাদা কোনো নির্ধারিত ফরম নেই। অর্থাৎ নির্ধারিত ফরম সংগ্রহের প্রয়োজন নেই; লিখিত আবেদন বা অভিযোগের মাধ্যমেই বিষয়টি জানানো যাবে। সেবাটিও বিনামূল্যে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সিটিজেনস চার্টারে বলা হয়েছে, সরাসরি শুনানি বা সাক্ষাতের মাধ্যমে অভিযোগ করা হলে সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন হলে সেই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগের ধরন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে অধিদপ্তর। প্রশাসন-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিচালক (প্রশাসন)-এর তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর কক্ষ নম্বর ৮১২ এবং ফোন নম্বর ৪১০২৪৬০৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (ভূমি রেকর্ড), পরিচালক (জরিপ) এবং মহাপরিচালকের তথ্যও অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চার্টারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের এই সেবা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমাধান দিতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
সিটিজেনস চার্টারে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার জন্য ৩০ কার্যদিবসের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আপিল কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপিল পর্যায়ে নিষ্পত্তির সময়সীমা ২০ কার্যদিবস।
অর্থাৎ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কোনো সেবা নিয়ে সমস্যা হলে শুধু অভিযোগ করার সুযোগই নয়, নির্ধারিত ধাপে প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সেবা গ্রহণকারী কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্ট হলে প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সমাধান না হলে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে।