নওগাঁর আত্রাইয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ঔষধি গাছের ৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার দাড়িয়াগাথী বীজ থেকে পার ব্রজপুর পর্যন্ত পাকা সড়কের দুই পাশে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

‘বৃক্ষ রোপণে সাজানো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সড়কের দুই পাশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। বিএমডিএ আত্রাই কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতায় মোট ৫ হাজার বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কের পাশে এসব গাছ বড় হয়ে উঠলে এলাকার পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সবুজ আচ্ছাদনও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিএমডিএর সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি এলাকার পরিবেশকে টেকসই রাখতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন। সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে একদিকে যেমন পথের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে গাছগুলো বড় হলে ছায়া, অক্সিজেন ও পরিবেশগত নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিএমডিএর আত্রাই কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে স্থানীয় পরিবেশ ও সড়কের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ধরনের বনজ ও ঔষধি গাছ নির্বাচন করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে এসব চারা রোপণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে একটি সবুজ বেষ্টনী তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। তবে রোপণ করা চারাগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া এবং গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমাজসেবক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, বিএমডিএ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল জলিল চকলেট, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু আনাছ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া যুবদল ও কৃষক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমাজসেবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের দুই পাশে গাছ থাকলে এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দুটোই বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব গাছ বড় হলে পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা হবে। তবে রোপণ করা চারাগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের নজর রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এলাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে শুধু চারা রোপণ নয়, গাছগুলোকে পরিণত হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।

আত্রাইয়ে বিএমডিএর এ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে একসঙ্গে ৫ হাজার চারা রোপণকে স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যথাযথভাবে পরিচর্যা করা গেলে রোপণ করা এসব গাছ আগামী দিনে সড়কের দুই পাশের পরিবেশকে আরও সবুজ ও সুন্দর করে তুলবে এবং স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!