ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বাসস): দেশের মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে চালু হতে যাচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ মোবাইল অ্যাপ। জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর এই অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলে অবস্থানের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই অ্যাপটি চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপে ব্যবহার করা হয়েছে জিওফেন্সিং প্রযুক্তি। এর ফলে প্রতিটি ভূমি অফিসের জন্য নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা বা চেক-ইন দিতে পারবেন। নির্ধারিত এলাকার বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অ্যাপে দেওয়া হাজিরার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে চলে যাবে। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর উপস্থিতির পরিস্থিতি দেখতে পারবেন। কেউ নির্ধারিত সীমানার বাইরে থেকে অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করলে বা ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করতে গেলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শুধু হাজিরা পর্যবেক্ষণ নয়, দাপ্তরিক প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে যাওয়ার তথ্যও অ্যাপের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা যাবে। সরকারি দায়িত্ব বা তদন্তের কাজে বাইরে যেতে হলে ‘সাইট ভিজিট’ ফিচারে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করা যাবে। পাশাপাশি অ্যাপ ব্যবহার করেই ছুটির আবেদন এবং ছুটির হিসাব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে ছয়টি জেলায় ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপের পরীক্ষামূলক বা পাইলট কার্যক্রম চলছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের মোট ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে অ্যাপটি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ভূমি প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ভূমিদৃষ্টি’ চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত কর্মস্থলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে ভূমি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে মন্ত্রণালয়। অ্যাপটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে প্যারালাক্সলজিক ইনফোটেক।

এর আগে গত ১৯ মে তেজগাঁও ভূমি ভবনে আয়োজিত ‘ভূমি সেবা মেলায়’ প্রযুক্তিনির্ভরভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তদারকির জন্য ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করেছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।