তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ (UDYOG)’ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬। তবে ২০ লাখ টাকা পুরোপুরি ঋণ নয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত নীতিমালায় আবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জামানত না লাগলেও ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণনীতি, যাচাই-বাছাই এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া যেতে পারে। ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। ফলে সর্বোচ্চ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যাবে। তবে আবেদন করলেই ২০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে না; ব্যবসার প্রয়োজন ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ব্যবসার ধারণা থাকতে হবে অথবা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে।
তবে কিছু শ্রেণির আবেদনকারী এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবেন না। আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ নেওয়া থাকলে আবেদনকারী অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। একইভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তিও এই অর্থায়নের জন্য যোগ্য নন। সিআইবি যাচাইয়ে ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত হলে আবেদন বাতিল হবে।
সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদেরও এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য বিবেচনা করা হবে না। আবেদনপত্রে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে উপস্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদন বাতিল হতে পারে। নীতিমালায় এ ধরনের ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
আবেদনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ থাকলে তার কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং নির্ধারিত আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা থেকেও ফরম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উদ্যোক্তা নির্বাচনের সময় বয়স ও কাগজপত্রের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা, সম্ভাব্য বাজার, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে। ফলে প্রাথমিক যোগ্যতা পূরণ করলেই অর্থায়ন নিশ্চিত হবে না।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তার ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়া এবং ব্যাংক ঋণ অনুমোদন পাওয়া দুটি পৃথক ধাপ।
এই কর্মসূচিতে অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক সচেতনতা কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহযোগিতা, Business Plan তৈরির পরামর্শ এবং বাজারসংযোগের সুযোগ রয়েছে।
তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করতে আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হলো ১৫ অক্টোবর ২০২৬। এর মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০ লাখ টাকা বলতে পুরোটা ঋণ বোঝায় না। এটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার সমন্বিত অর্থায়ন, যার কাঠামো সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান। কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ওপর।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!