গত মঙ্গলবার বিসিসিআই আর আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বিতর্কিত ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম। রিপোর্ট অনুযায়ী বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে, আর গভর্নিং কাউন্সিল আগামী মাসে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করবে। অর্থাৎ এই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, বরং বিষয়টি সামনের এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য আরেকটি বৈঠকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মতামত পর্যালোচনা করেই সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এই নিয়ম নিয়ে এত আলোচনার কারণ মূলত অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব কমে যাওয়া। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের মাধ্যমে দলগুলো ম্যাচের মাঝে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার বা বোলার নামানোর সুযোগ পায়, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাড়তি নমনীয়তা দেয় কিন্তু একাধিক বিভাগে অবদান রাখতে সক্ষম খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয়। ফলে শিবম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, ভেঙ্কটেশ আইয়ার কিংবা রাহুল তেওয়াটিয়ার মতো প্রকৃত অলরাউন্ডাররা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে কঠিন সময় পার করছেন, আর এ নিয়েই একাধিক অধিনায়ক সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার দিক থেকে দেখলে, বিসিসিআই এবারের পর্যালোচনায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মতামত নেওয়ার পথে হেঁটেছে। বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে মতামত চেয়েছিল, যার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট ২০২৬। সব দলের মতামত জমা পড়ার পর এখন গভর্নিং কাউন্সিল বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে দেখবে নিয়মটি বাতিল করা হবে নাকি বহাল রাখা হবে। এই আলোচনায় আম্পায়ারিং, অনুশীলন সেশন আর খেলার শর্তাবলি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ও উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে।

২০২৩ সাল থেকে চালু হওয়া এই নিয়মে একটি দল টস-পূর্ব জমা দেওয়া তালিকা থেকে ম্যাচের প্রাকৃতিক বিরতিতে নির্দিষ্ট এক খেলোয়াড়কে বদলি হিসেবে মাঠে নামাতে পারে, তবে ওভারের মাঝপথে এই পরিবর্তন করা যায় না। এই নিয়ম আসার পর থেকে রানের প্রবাহ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫—এই তিন মৌসুমেই দলগুলো ১৩০ বার ২০০ রানের গণ্ডি পার করেছে, যা আগের পনেরো মৌসুম মিলিয়ে হওয়া ১৩৩ বারের প্রায় সমান। এই পরিসংখ্যানই বোঝায় নিয়মটি খেলার চরিত্র কতটা বদলে দিয়েছে।

নিয়মটি নিয়ে বিসিসিআই সচিব জয় শাহ আগে বলেছিলেন এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চালু হয়েছিল এবং স্টেকহোল্ডাররা চাইলে তা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ একাধিক অধিনায়ক প্রকাশ্যেই এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ইতিমধ্যে বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী দল গঠন করে ফেলায় গভর্নিং কাউন্সিল আরও একটি মৌসুমের জন্য নিয়মটি বহাল রাখার কথা ভাবতে পারে, আর তা না হলে ২০২৮ সাল থেকে নিয়মটি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে, যদিও এই সময়সূচি নির্ভর করছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অধিনায়কদের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার ওপর।

এই পুরো বিতর্কের একটি ইতিবাচক দিকও আছে বলে অনেকে মনে করেন। নিয়মটি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিয়েছে, বিশেষত তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে বোলারদের ওপর চাপ বেড়েছে আর দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপ তৈরির প্রবণতা বেড়ে গেছে বলেও সমালোচকরা মনে করেন। এই দুই দিক বিবেচনা করেই গভর্নিং কাউন্সিলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

সব মিলিয়ে এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক মাস পর অনুষ্ঠিতব্য সেই বৈঠকের জন্য, যেখানে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি, অধিনায়ক আর সমর্থকদের মধ্যে এই নিয়ম নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!