দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ১২ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা। এই দাম ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকার কথা জানিয়েছে বাজুস।
বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৬ টাকা। এসব দাম নির্ধারণের সময় ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এক ভরি স্বর্ণের ওজন ধরা হয় ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। সর্বশেষ নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম প্রায় ২০ হাজার ১৯৯ টাকার কাছাকাছি পড়ে। তবে গহনা কেনার সময় শুধু স্বর্ণের ঘোষিত দাম দিলেই মোট খরচ শেষ হয় না। গহনার নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত হতে পারে। ফলে দোকান থেকে গহনা কেনার সময় প্রতি ভরির চূড়ান্ত মূল্য বাজুস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।
স্বর্ণের দামে সর্বশেষ পরিবর্তনটি হয়েছিল ১২ সেপ্টেম্বর। এর ঠিক এক দিন আগে, ১১ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই আবার ৩ হাজার ৬৬১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা করা হয়। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বরও স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ওই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজারে কয়েক দফা মূল্য সমন্বয় হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বরের পর ১১ সেপ্টেম্বর দাম কমানো হয়, আবার ১২ সেপ্টেম্বর তা বাড়ানো হয়।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দামের পরিবর্তনের পাশাপাশি সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও নির্ধারণ করে থাকে বাজুস। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা। ১২ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
গহনা কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বাজুসের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরি গহনা কিনতে গেলে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা হলো নির্ধারিত স্বর্ণমূল্য; এর সঙ্গে প্রযোজ্য মজুরি যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে।
পুরোনো স্বর্ণের গহনা বদলে নতুন গহনা নেওয়া বা পুরোনো গহনা বিক্রির ক্ষেত্রেও বাজুসের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তাই ক্রেতা বা বিক্রেতার উচিত গহনা কেনাবেচার আগে স্বর্ণের বর্তমান দর, মজুরি এবং পুরোনো গহনা বিনিময় বা বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর্তনের হিসাব জেনে নেওয়া।
স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ১৬ সেপ্টেম্বরের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাজুস নতুন সিদ্ধান্ত দিলে এই দাম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্বর্ণ কেনার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেদিনের কার্যকর মূল্য ও মজুরি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান হিসাবে, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৬ টাকা। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব দর দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর থাকার কথা জানিয়েছে বাজুস।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!