অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে বড় ধরনের আপগ্রেড আনতে যাচ্ছে আইকিউওও। নতুন iQOO 16 ফোনে স্যামসাং ডিসপ্লের নতুন M16 OLED উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে আইফোন ডুও সিরিজের ডিসপ্লেতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের খবর সামনে এসেছিল। এবার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথমবারের মতো স্যামসাংয়ের এই নতুন OLED উপাদান ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে iQOO।
iQOO 16-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এর ডিসপ্লে। স্যামসাং ডিসপ্লের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই প্যানেলে থাকছে 2K রেজল্যুশন ও 165Hz রিফ্রেশ রেট। iQOO-এর দাবি, একই সঙ্গে 2K রেজল্যুশন ও 165Hz রিফ্রেশ রেটের সমন্বয় করা এটিই প্রথম স্মার্টফোন ডিসপ্লে। বিশেষ করে গেমিং ফোন হিসেবে iQOO 16-এর জন্য এই উচ্চ রিফ্রেশ রেট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিসপ্লেটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাংয়ের M16 লুমিনেসেন্ট ম্যাটেরিয়াল এবং নতুন LEAD 2.0 প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে OLED প্যানেলের প্রচলিত পোলারাইজার বাদ দিয়ে আলো বের হওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে একই সঙ্গে বেশি উজ্জ্বলতা এবং কম বিদ্যুৎ খরচ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। iQOO ও স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তিটি প্রচলিত OLED-এর তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় করতে পারে।
উজ্জ্বলতার দিক থেকেও iQOO 16 বেশ এগিয়ে থাকার দাবি করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ফোনটির ডিসপ্লের গ্লোবাল পিক ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ ২৮০০ নিট, আর নির্দিষ্ট ছোট অংশে স্থানীয় পিক ব্রাইটনেস ১০ হাজার নিট পর্যন্ত যেতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। তবে গ্লোবাল ও লোকাল ব্রাইটনেস একইভাবে পরিমাপ করা হয় না। লোকাল পিক ব্রাইটনেস সাধারণত পর্দার ছোট একটি অংশে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা বোঝায়, তাই বাস্তব ব্যবহারে পুরো স্ক্রিনজুড়ে ১০ হাজার নিট উজ্জ্বলতা পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
গেমারদের জন্যও ডিসপ্লেটিতে রাখা হয়েছে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা। iQOO 16-এ তাৎক্ষণিক টাচ স্যাম্পলিং রেট সর্বোচ্চ ৫০০০Hz এবং মাল্টি-ফিঙ্গার টাচ স্যাম্পলিং রেট ৫০০Hz পর্যন্ত হবে। সঙ্গে থাকবে iQOO-এর Q-Flex প্রযুক্তি, যার উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর স্পর্শ থেকে গেমের প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত ইনপুট লেটেন্সি কমিয়ে আনা। দ্রুতগতির শুটিং, রেসিং কিংবা প্রতিযোগিতামূলক গেমে এ ধরনের প্রযুক্তি বেশি কাজে লাগতে পারে।
ডিসপ্লেটির রঙের নির্ভুলতা ও সমান উজ্জ্বলতার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে iQOO। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের তুলনায় রঙের সমতা প্রায় ৩৯.৬ শতাংশ এবং উজ্জ্বলতার সমতা প্রায় ২২.৩ শতাংশ উন্নত করা হয়েছে। প্যানেলগুলোতে আলাদাভাবে রঙ ও উজ্জ্বলতা ক্যালিব্রেশন করার ব্যবস্থাও থাকছে। এছাড়া ডিসপ্লেতে 1.24x P3 কালার গ্যামাট কভারেজ, ৫০৮ পিপিআই, DC ডিমিং এবং সর্বোচ্চ ৩৩০০Hz PWM ডিমিংয়ের মতো ফিচার থাকবে।
নতুন ডিসপ্লে প্রযুক্তির আরেকটি লক্ষ্য হলো উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। iQOO ও স্যামসাংয়ের যৌথভাবে তৈরি LEAD 2.0 আর্কিটেকচারে নতুন M16 উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাওয়ার এফিশিয়েন্সি উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। ফলে 2K রেজল্যুশন ও 165Hz রিফ্রেশ রেটের মতো তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি প্রয়োজন এমন ডিসপ্লেতেও ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
iQOO 16-এর ডিসপ্লে তৈরির ক্ষেত্রে শুধু উপাদান পরিবর্তন নয়, উৎপাদন ও ক্যালিব্রেশনেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্যামসাং ডিসপ্লে ও iQOO যৌথভাবে এই প্যানেল উন্নয়নে কাজ করেছে এবং iQOO-এর জন্য বিশেষ ফ্ল্যাগশিপ উৎপাদন লাইন ও কাস্টম হাই-রিফ্রেশ-রেট ড্রাইভার আইসি ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।
বর্তমানে iQOO 16-এর পুরো হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন প্রকাশিত হয়নি। তবে ডিসপ্লের বিষয়ে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে স্পষ্ট যে ফোনটির অন্যতম প্রধান ফোকাস হবে গেমিং ও উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। ফোনটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চীনের বাজারে উন্মোচনের কথা রয়েছে।
এদিকে M16 OLED প্রযুক্তি নিয়ে স্মার্টফোন বাজারে আগ্রহ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি স্যামসাং ডিসপ্লের নতুন প্রজন্মের OLED উপাদান। আইফোন ডুওতে ব্যবহারের পর একই প্রযুক্তি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আসায় প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের ডিসপ্লে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। তবে iQOO 16 বাংলাদেশে কবে আসবে এবং এর সম্ভাব্য দাম কত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই বাংলাদেশি বাজারের দাম বা সরবরাহ নিয়ে আপাতত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!