নওগাঁর নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৫০ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ ‘ওয়াশ’সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর উপজেলার সাদাপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত খয়রুল্লাহর ছেলে মো. তাজিমুদ্দীন (৩৮), শ্যামপুর খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৫৬) এবং একই গ্রামের মো. সম্রাটের ছেলে শ্রী রনজিত (৪২)। তারা সবাই নওগাঁর নিয়ামতপুর থানা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় নিয়ামতপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল চোলাই মদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় শ্যামপুর গ্রামের ওই বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

অভিযান চলাকালে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাদের হেফাজত থেকে ৫৫০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোলাই মদ তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ হিসেবে রাখা ‘ওয়াশ’ও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামত পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে চোলাই মদ প্রস্তুত এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যসহ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় পর্যায়ে চোলাই মদ তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মাদকের উৎস, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ক্রেতা বা সরবরাহকারীদের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিয়ামতপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে একটি চক্র এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চোলাই মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!