নওগাঁর রাণীনগরে পুলিশ বক্সের অদূরে মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও এক কাপড় ব্যবসায়ীকে মারধর করে নগদ প্রায় ৪৩ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়বড়িয়া রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ছিনতাইয়ের সময় ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে পুলিশের টহল গাড়ি অবস্থান করছিল।

ছিনতাইয়ের শিকার নাহিদুল ইসলাম আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর ভবানীপুর কওমি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তার সঙ্গে থাকা আবু রায়হান রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর এলাকার বাসিন্দা এবং কাপড়ের ব্যবসা করেন। তারা দুজন আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কেও ছিলেন।

ভুক্তভোগী নাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি তার সাবেক ছাত্র আবু রায়হানকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ শহর থেকে একটি ভাড়া করা অটোরিকশায় আত্রাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের গন্তব্য ছিল আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর ভবানীপুর কওমি মাদ্রাসা। নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বড়বড়িয়া রেলক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশাটির গতিরোধ করে।

নাহিদুলের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় ছিনতাইকারীদের কয়েকজনের হাতে হাসুয়া ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজনকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৪৩ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

নাহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার সময় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ছিনতাইকারীরা অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোয় তারা প্রতিরোধ করতে পারেননি। এমনকি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখতে পেলেও ভয়ে চিৎকার করে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সাহস পাননি। পরে ছিনতাইকারীরা তাদের আরও ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্রাইয়ের দিকে চলে যেতে বাধ্য করে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বড়বড়িয়া রেলক্রসিংয়ের পাশে থাকা পুলিশ বক্স থেকে ঘটনাস্থলটি খুব বেশি দূরে নয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের স্থান থেকে পুলিশ বক্সের দূরত্ব প্রায় ৫০০ গজ। এ কারণে পুলিশি টহলের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার পর নাহিদুল ইসলাম ও আবু রায়হান স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাণীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এবং পুলিশ বক্সের কাছাকাছি এলাকায় এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভোররাতে মহাসড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ছিনতাইকারীকে শনাক্ত বা আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করলে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং পুলিশের টহল গাড়ি ঘটনাস্থলের কতটা কাছে ছিল, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কার হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!