বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে—এবার সেই বিষয়টি নিশ্চিত করলেন জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গত বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর ব্রাজিল দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ। তাঁর লক্ষ্য, তরুণদের নিয়ে এমন একটি দল তৈরি করা, যারা ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে আবার বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারবে।

সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমারের মান ও সামর্থ্যের কারণে বিশ্বকাপে তাঁর থাকা উচিত ছিল। তবে নেইমার নিজেই জাতীয় দলে আর ফিরতে চান না বলে নিশ্চিত করেছেন। আনচেলত্তির ভাষায়, নেইমারের মতো খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ তিনি অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী।

নেইমার অধ্যায়ের সমাপ্তির পর এখন ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ দল নিয়ে ভাবছেন আনচেলত্তি। তাঁর পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে নতুন খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

আনচেলত্তি বলেন, ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের এখন বিশেষভাবে নজরে রাখার সময় এসেছে। একই সঙ্গে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে, যারা এখনো জাতীয় দলের হয়ে খেলেনি। ভবিষ্যতে তাদেরও সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও কোনো খেলোয়াড় খুব ভালো ফুটবল খেলতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের সামনে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে।

ব্রাজিল ফুটবলের দীর্ঘদিনের একটি সমালোচনা হলো, অনেক সময় দলীয় ফুটবলের চেয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আনচেলত্তিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাঁর পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভরশীলতার বদলে শক্তিশালী দলীয় কাঠামো তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য।

আধুনিক ফুটবলে দলগত সমন্বয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, কোনো দলে অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলে জয়ের সম্ভাবনা অবশ্যই বাড়ে। তবে বর্তমান ফুটবলে শুধু একজন বা কয়েকজন তারকার ওপর নির্ভর করে সাফল্য পাওয়া কঠিন। তাই ভবিষ্যতের ব্রাজিল দলকে সমষ্টিগত শক্তির ওপর দাঁড় করাতে চান তিনি।

এ জন্য প্রতিভাবান তরুণদের খুঁজে বের করে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন ব্রাজিল কোচ। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হবে।

নেইমারের মতো দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান তারকাকে ছাড়া ব্রাজিলের নতুন যাত্রা তাই আনচেলত্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিনির্ভর দল থেকে বেরিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দলীয় কাঠামোর ব্রাজিল গড়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সেই নতুন প্রজন্মই সেলেসাওদের পুনরুত্থানের মূল ভরসা হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!