বার্সেলোনার স্প্যানিশ শহর বার্সেলোনায় অবস্থিত স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার নির্বাহী কমিটি আজ, ১৫ সেপ্টেম্বর, গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে বৈঠকে বসে ২০২৮ ও ২০২৯ সালের বিভিন্ন ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল কোথায় হবে তা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল, যার জন্য মূলত দুটি স্টেডিয়াম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে— বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু এবং লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম।
কেন ক্যাম্প ন্যুকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। স্টেডিয়ামটি বর্তমানে বড় ধরনের সংস্কারকাজের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর এই সংস্কার শেষ হলে এর দর্শক ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ চার হাজার ছয়শো, যা একে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত করবে। উয়েফার কাছে এত বিশাল সংখ্যক দর্শকের সামনে একটি ফাইনাল আয়োজনের ভাবনাটি বেশ আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বার্সেলোনা ক্লাব, বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল, কাতালান সরকার এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ সমর্থনে এই বিড জমা দেওয়া হয়েছে, যা এটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। বার্সেলোনা ও উয়েফা প্রধান আলেকজান্ডার চেফেরিনের মধ্যে সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বার্সেলোনার পক্ষে যেতে পারে।
কীভাবে এই দুই স্টেডিয়াম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এলো, তা বোঝার জন্য একটু পেছনে ফিরে তাকানো দরকার। উয়েফা গত বছর পনেরোটি জাতীয় ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে ২০২৮ ও ২০২৯ সালের বিভিন্ন ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহপত্র পেয়েছিল। চূড়ান্ত বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ১০ জুন, এবং পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কেবল ক্যাম্প ন্যু ও ওয়েম্বলিই টিকে থাকে। ২০২৮ সালের ফাইনালের জন্য জার্মানির মিউনিখ শহরের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা একমাত্র প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছে, তাই সেই সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিশ্চিত।
ওয়েম্বলি অবশ্য দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এই স্টেডিয়াম ইতিমধ্যে আটবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল আয়োজন করেছে, সবশেষ ২০২৪ সালে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জেতে। এছাড়া ওয়েম্বলি ২০২৮ সালের ইউরো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনালও আয়োজন করবে বলে আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে, যা কারও কারও মতে বার্সেলোনার পক্ষে যেতে পারে— কারণ উয়েফা হয়তো একই দেশে পরপর বড় দুটি টুর্নামেন্ট রাখতে চাইবে না।
কোথায় এবং কখন এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে, তা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। থেসালোনিকিতে আজকের বৈঠকেই উয়েফার নির্বাহী কমিটি এই সিদ্ধান্ত জানাবে। শুধু পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালই নয়, একই বৈঠকে ইউরোপা লিগ, কনফারেন্স লিগ এবং নারীদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল আয়োজক শহরও ঠিক করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, স্পেনের বিলবাও শহরের সান মামেস স্টেডিয়াম ২০২৮ সালের নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল আয়োজনের জন্য লিওঁ, বাসেল ও ইস্তাম্বুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে উয়েফা এটিকে কোনো বড় বাধা হিসেবে দেখছে না বলে জানা গেছে। উয়েফা কর্মকর্তারা নিয়মিত নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্টেডিয়ামের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখেন। ক্যাম্প ন্যু এর আগে দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল আয়োজন করেছে— ১৯৮৯ সালে যেখানে এসি মিলান স্তেয়াউয়া বুখারেস্টকে ৪-০ গোলে হারায়, এবং ১৯৯৯ সালে যেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাটকীয়ভাবে বায়ার্ন মিউনিখকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে। সেই হিসেবে ২০২৯ সালের ফাইনাল যদি সত্যিই ক্যাম্প ন্যুতে হয়, তাহলে এটি হবে প্রায় তিন দশক পর বার্সেলোনায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব ফুটবল আসরের প্রত্যাবর্তন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!