স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক কয়েক দফা ওঠানামার পর আপাতত স্থির রয়েছে দেশের খুচরা দর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন কোনো মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না আসায় ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারও একই দরে স্বর্ণ বিক্রি হওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। এসব মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারিত। এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
বাজুসের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে স্বর্ণের দাম কয়েক দফায় কমেছিল। ৬ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা, ৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ১০৮ টাকা এবং ১১ সেপ্টেম্বর আরও ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়। তিন দফা কমানোর পর ১২ সেপ্টেম্বর আবার ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে একাধিকবার মূল্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
রুপার বাজারেও নতুন পরিবর্তন নেই
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও সর্বশেষ পাওয়া বাজুসভিত্তিক দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের জন্য ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা।
গহনা কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
বাজুস নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গহনার নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই। পুরোনো গহনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রেও বাজুসের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
তাই ১৫ সেপ্টেম্বর স্বর্ণ বা রুপার গহনা কেনার ক্ষেত্রে শুধু ভরিপ্রতি দাম নয়, গহনার প্রকৃত ওজন, ক্যারেট, মজুরি এবং ক্যাশমেমোর তথ্যও যাচাই করা জরুরি। বাজারে নতুন কোনো ঘোষণা এলে অবশ্যই সেই অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হবে।