কেউ বমি করছে, কেউ পেটের ব্যথায় কাতর, আবার কেউ দুর্বল হয়ে পড়ছে। পড়াশোনার সময় স্কুলে থাকার কথা যেসব শিশুর, অসুস্থ হয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত কয়েক মাসে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় খাবারের মান, সংরক্ষণ ও পরিবেশনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির নয় শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি খাবার কীভাবে সংরক্ষণ ও পরিবেশন করা হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ডিম ও পাউরুটি দীর্ঘ সময় আলমারিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এভাবে খাবার সংরক্ষণ করলে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

যদিও শিক্ষকদের একাংশের দাবি, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজের সময়ও শিশুদের বমি বা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। তাই শুধু স্কুল ফিডিংয়ের খাবার থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে শতভাগ মান নিশ্চিত করেই পাউরুটি উৎপাদন করা হচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে, খাবার গ্রহণের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ মান যাচাই করেই সরবরাহসংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর করে।

চিকিৎসকদের মতে, বমি, পেটব্যথা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ শুধু খাবারের সমস্যার কারণেই হতে হবে এমন নয়। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ত্রুটি, জীবাণু সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো কারণেও এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফলে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে পরিচালিত তদন্তে ডিম ও পাউরুটিতে ফুড পয়জনিংয়ের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

তবে কারণ নিয়ে প্রশ্নের পুরোপুরি সুরাহা না হলেও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিভাবকদের দাবি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ, সংরক্ষণ ও পরিবেশন—প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের জন্য পরিচালিত এই কর্মসূচিতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মান পরীক্ষা, সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে যথাযথ তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!