জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং ম্যানগ্রোভ বনায়ন রক্ষা ও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে গাছপালা বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাটের মোংলার চাঁদপাই মেছেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বৃক্ষরোপণ করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও আশা-হফনুং-এর আয়োজনে এবং চাঁদপাই মেছেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্লানেটিয়ার্স ক্লাবের বাস্তবায়নে চারা বিতরণ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপাই মেছেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বদেশ মন্ডল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবন একসময় ১৯ হাজার ৫০৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছিল। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এর আয়তন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষায় বনবিনাশী কর্মকাণ্ড বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে ম্যানগ্রোভ বনকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি নতুন এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে একদিকে উপকূলীয় জনপদ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক স্বদেশ মন্ডল শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানো ও পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তাদের মধ্যে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। গাছপালা অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের মাধ্যমে জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অসিত গুপ্ত, সিনিয়র শিক্ষক উত্তম মন্ডল, ব্রজেন রায়, শেখ শাকিব হুসাইন, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান এবং চাঁদপাই মেছেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্লানেটিয়ার্স ক্লাবের ক্যাপ্টেন ঐশী করিম বক্তব্য দেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ চারার পরিচর্যা করে তা বড় করে তুলবে। বছর শেষে যারা সফলভাবে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে পারবে, তাদের ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন করে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!